‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ইকবাল কাগজী

স্টাফ রিপোর্টার
‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ লাভ করেছেন সুনামগঞ্জের নিভৃতচারী লেখক সাংবাদিক ইকবাল কাগজী। আজ সোমবার রাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)তে হাওর-ভাটির এই গুণী সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করবে বসুন্ধরা গ্রুপ। ইকবাল হোসেন কাগজীসহ দেশের আরও ৬৩ জেলার ৬৩ জন গুণী সাংবাদিক এই সম্মাননা পেয়েছেন। আইসিসিবিতে ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ এর আয়োজনে ৫টি ক্যাটাগরিতে দেশখ্যাত ১১ জন অসুসন্ধানী সাংবাদিককে পুরস্কার প্রদান করা হবে। সম্মাননাপ্রাপ্ত ইকবাল কাগজীসহ দেশের ৬৪জন প্রবীণ ও গুণী সাংবাদিকদের সন্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকা প্রদান ছাড়াও উত্তরীয় পরিয়ে দেবেন অতিথিরা।
সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল কাগজী বলেন, আমি পুরস্কার ও সম্মাননার আশায় কখনো লেখালেখি করিনি। সামাজিক দায়বোধ থেকে সর্বমানুষের কল্যাণে কিছু লেখালেখি করছি। আমি চাই আমাদের প্রজন্ম মানবিক মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠুক। সততা ও নিষ্টার সাথে দেশের হাল ধরুক। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকুক। বসুন্ধরা গ্রুপ সম্মাননা জানানোয় আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ইকবাল হোসেন কাগজী ১৯৫৬ সনের ২৬ আগস্ট সুনামগঞ্জের শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আব্দুল গণি কাগজী, মাতা ছুরতুন নিসা কাগজী। তিন ভাই ২ বেকানের মধ্যে ইকবাল হোসেন কাগজী সবার ছোট।
স্বগ্রামের শাহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে গ্রামের হাইস্কুলে ৬ ষ্ট শ্রেণি, সিলেট জেলার ভাদেশ্বরের নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণি, সুনামগঞ্জ শহরের এইচএমপি হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি ও সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে (বহিরাগত শিক্ষার্থী হিসেবে) পরবর্তীতে ¯œাতক সম্পন্ন করেন।
কিশোরকাল থেকেই তিনি লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। প্রথম লেখা ভাষাসংগ্রামী ও সাংবাদিক আব্দুল হাই সম্পাদিত ‘বিগত প্রচ্ছদে’ প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। কবিতার নাম ছিল ‘আমি এক ইলেক্ট্রিসিটি’। স্বাধীনতাপরবর্তী সুনামগঞ্জের উল্লেখযোগ্য যতগুলো পত্র-পত্রিকা বেরিয়েছে তিনি এসব প্রকাশনা বের হবার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব পত্রিকায় নিয়মিত সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ও ফিচার লিখেছেন। এক দশক আগে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রকাশিত জেলার প্রথম নিয়মিত দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এখনো তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি দৈনিক সুনামকণ্ঠেও লিখেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি এই অঞ্চলের মূলধারার সাহিত্যান্দোলনের একজন প্রভাবশালী লেখক। আশির দশকে লেখক শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি সমানতালে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখছেন। তার একাধিক গ্রন্থ ইতোমধ্যে বের হয়েছে। সম্পাদনা করেছেন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক গ্রন্থ। এখন বাংলাভাষায় নবসৃষ্ট শব্দ নিয়ে অভিধানের কাজে হাত দিয়েছেন।
২০১৯ সালে কবি ইকবাল কাগজীকে সম্মাননা দিয়েছে মৌলভীবাজার প্রগতি লেখক সংঘ। ২০২০ সালে প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেট তাকে সম্মাননা প্রদান করে।