বাঁধে হচ্ছে না কমপেকশন, নেই সাইনবোর্ড, রেজিস্ট্রারও

সোহানুর রহমান সোহান, সরেজমিন
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে পাউবো’র ডিজাইন অনুসরণ করা হচ্ছে না। প্রাক্কলন অনুযায়ী ৬ ইঞ্চি উচ্চতায় মাটি দেয়ার পর কমপ্যাকশন (দুর্মোজ) করার কথা থাকলেও বাস্তবে ৩-৪ ফুট মাটি ফেলার পরেও কমপ্যাকশন করা হচ্ছে না। এতে বাঁধ উপরের দিকে ফিটফাট থাকলেও নীচে দুর্বল থেকে যাবে।
নিয়ম মোতাবেক কমপ্যাকশন করলে বাঁধের শক্তি বাড়বে এবং বাঁধ মজবুত থাকবে। অন্যথায় বাঁধের ভিতরে ফাঁকা থেকে যাবে। পানি আসলে সেই ফাঁকা অংশ দিয়ে ছুঁইয়ে বাঁধ ভেঙে যাবে। শুধু কমপ্যাকশনই নয়, নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, বাঁধে সাইনবোর্ড নেই. নেই মন্তব্য লেখার রেজিস্টারও।
তাহিরপুরের বেশ কয়েকটি প্রকল্প স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ প্রকল্পে কাজ শুরু হয় নি। যে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে নেই কোন সাইনবোর্ড, রেজিস্ট্রার। দেয়া হয় নি কাজের লিখিত আদেশ। মৌখিক আদেশে মন মতো কাজ উঠিয়ে নিচ্ছেন পিআইসিরা। বাঁধে মাটি ফেলে দেয়া হচ্ছে না দুর্মোজ। উপজেলার ৮ নং প্রকল্পে যেমন খুশি তেমন ভাবে ফেলে রাখা হয়েছে মাটি।
জামালগঞ্জ উপজেলার বৈজ্ঞানিক খাল অংশের ৫ নং প্রকল্পের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ জায়গায় মাটি ফেলার কাজ প্রায় শেষ। ৫ ফুট উচ্চতার এই বাঁধের সাড়ে ৪ ফুট মাটি দেওয়া হলেও কোনো কমপ্যাকশান করতে দেখা যায় নি। কমপ্যাকশান ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে এই বাঁধ। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ১৫ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। এমন অবস্থা শুধু এই উপজেলার নয়। পুরো জেলায় বাঁধের কাজের এমন নাজেহাল অবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন।
তিনি বলেন, প্রাক্কলন বলতে কোনো কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে না। যেভাবে মন চাইতেছে সেভাবে কাজ করা হচ্ছে। একটি প্রকল্পেও ঠিকমতো দুর্মোজ দেয়া হচ্ছে না। লাগানো হয়নি সাইনবোর্ড। লিখিত কার্যাদেশ ছাড়া মৌখিক আদেশেই শুরু হয়েছে কাজ।
তাহিরপুর উপজেলার নয়গাঁও গ্রামের কৃষক অমলেন্দু বললেন, আমরা চাই সুন্দর বাঁধ। সুন্দর বাঁধ করতে হলে চাকা মাটি না দিয়ে গুড়া মাটি দিতে হবে। গুড়া মাটি দিলে বাঁধ শক্ত হয়। চাকা মাটি দিয়ে ভালোভাবে দুর্মোজ না করলে নিচের দিকে ঠস (ফাঁক) থেকে যায়। আর এই ঠস দিয়ে পানি ঢুকে।
তাহিরপুর উপজেলার ৮ নং প্রকল্পের সভাপতি মানিক মিয়া বললেন, আমরা মৌখিক ভাবে কাজ করার আদেশ পেয়েছি ১৯ জানুয়ারি। এখনো লিখিত কার্যাদেশ পাইনি। লিখিত আদেশ যেখানে পাইনি সাইনবোর্ড, রেজিস্ট্রার কিভাবে পাবো।
জামালঞ্জের ৫ নং পি আইসির সভাপতি আব্দুর রহমান বললেন, মাটি ফেললেও কাজ শেষ হয় নি। আগেও ডলা (দুর্মোজ) দিয়েছি। সব মাটি ফেলে আবার ডলা দিবো।
জামালগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি বললেন, কাজে কমপ্যাকশন হচ্ছে না এমন রিপোর্ট পাওয়ার পরে কয়েকবার কমপ্যাকশন করার কথা বলেছি। এরপরও পিআইসি করছে না। তবে দ্রুতই কমপ্যাকশন করানো হবে। সাইনবোর্ড গুলো প্রিন্টে আছে, দ্রুত লাগানো হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বললেন, কমপ্যাকশন হচ্ছেনা এরকম একটি রিপোর্ট পেয়ে পিআইসিকে নির্দেশ দিয়েছি মাটি সাইডে ফেলে কমপ্যাকশন দিয়ে আবার উপরে মাটি ফেলতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে এই কাজ দেখভাল করার জন্য বলেছি।