বাংলাদেশকে কেউ কখনও দাবিয়ে রাখতে পারবে না: মোদি

সু.খবর ডেস্ক
বাংলাদেশকে কেউ কখনও দাবিয়ে রাখতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষের যেমন ব্যাকুলতা ছিল, ঠিক একই ধরনের ব্যাকুলতা ছিল ভারতের জনগণের মধ্যেও। মোদি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৫টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত দেওয়া বক্তব্যে কয়েকটি লাইন বাংলাতেও বলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বক্তব্য শুরু করেন, ‘সোনার বাংলার প্রিয় বন্ধুরা’ সম্বোধনের মধ্য দিয়ে। তিনি ঢাকায় এ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, আমার জীবনের সেরা স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে ঢাকায় আজকের অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি নিজের ও ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাধারণ দৃঢ়তায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন। দেশের মানুষকে স্বাধীনতা ও অধিকারের মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন। বাংলায় উচ্চারণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিনি সবাইকে ডাক দিয়ে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তার এই ভাষণ বিশ্বের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশের কৃষক, যুবক, শ্রমিক, মজুর সবাই এক হয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে স্বাধীনতার সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি বাঙালিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সে কারণেই আজ মুজিববর্ষে মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, আদর্শ স্মরণ করছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তিনি শান্তির বার্তা ছড়িয়েছেন। এ কারণেই ভারত সরকার বঙ্গবন্ধুকে এ বছর গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছে বলেও জানান নরেন্দ্র মোদি।
নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামে শহীদদের নাম উচ্চারণ করে সবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের নাম উচ্চারণ করেও শ্রদ্বাবনত চিত্তে তাদের স্মরণ করেন।
নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ অধ্যায়ের সময় নিজের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছিল, তখন আমি তরুণ ছিলাম। বয়স ছিল ২০ থেকে ২২ বছর। সে সময় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে ভারতে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। সেটাই ছিল আমার জীবনে প্রথম কোনো আন্দোলনে অংশ নেওয়া। এ জন্য তখন তাকে কারাবরণও করতে হয়।
তিনি বলেন, এ থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ব্যাকুলতা ছিল, ঠিক একই ধরনের ব্যাকুলতা ছিল ভারতের জনগণের মধ্যেও।
তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের হৃদয়ের বন্ধন সৃস্টি হয়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দৃঢ় চিত্তে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি যখন প্রথম ঢাকায় আসেন তখন স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আগামী দিনেও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করবে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন, সেই বাংলাদেশকে কেউ কখনই দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহন করা ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ প্লেন হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর তাকে স্বাগত অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ভারতের প্রধানন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বাইতে স্বাক্ষর করেন।
সূত্র : সমকাল