বাজারও আগুন লাগিগেছে

সোহানুর রহমান সোহান
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের গৃহিণী রেহানা বেগম। প্রায়ই বাজার সদাই করেন শহরের বাজার থেকে। বাজারে এসে শুধুমাত্র ১ কেজি পেঁয়াজ হাতে বাড়ি ফিরছেন তিনি। তিনি বলেন, টাউনের বাজারও আগুন লাগিগেছে। কিনার মতো কুন্তাই নাই। যেতাই কেনাত যাইবায় ইতাই দাম দ্বিগুন বাড়াইল। কমের মাঝে একমাত্র পেঁয়াজের দামই কম, ৪০ টাকা কেজি। তাও মাত্র কয়েকদিনে ৫ টাকা বাইড়া সারছে। গ্রাম তাকি টাউনও বাজার করাত আইয়াও জান বাঁচানি যাইতনা অখন।
একই অনুভূতি জানালেন পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের মাওলানা খিজির আহমেদ। বললেন, ১ হাজার টাকা নিয়ে বের হয়ে মাত্র ৩০ টাকা আছে পকেটে। বাজারও খুব একটা করতে পারিনি টাকা শেষ। যে অবস্থা শুরু হয়েছে তা বলার মতো না। এভাবে চললে টিকে থাকাই দায় হয়ে যাবে।
বুধবার বিকালে শহরের জগন্নাথবাড়ি ও জেল রোড এলাকা ঘুরে কয়েক জন ক্রেতার সাথে কথা বলে এমন বক্তব্য পাওয়া যায়।
এসব এলাকার পাইকারি ও খুচরা দোকানে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাজারের সকল পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগামী। মূল্যের আগুনের তাপে পুড়ছে পুরো বাজার। খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে ব্যবহারের প্রসাধনীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হাওর এলাকার দরিদ্র মানুষদের জন্য।
সয়াবিন তেলের লিটার প্রতি বেড়েছে ১২ টাকা। ৫ লিটার তেলের বোতল ৮৮০ থেকে বেড়ে ৯২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আটা-ময়দার দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ৩০ টাকা কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা পর্যন্ত আর ময়দা ৪০ থেকে ৮৩ টাকা। প্রসাধনীর মধ্যে লাক্স ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, হুইল পাউডার প্যাকেট ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। বাজারে প্যাকেট চিনি নেই আরও ১ মাস আগে থেকে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। এছাড়াও অন্যান্য সকল পণ্যের দাম একই ভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভাবে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের উপর কিছুটা প্রভাব পড়ছে। আগের থেকে কিছুটা কমছে বেচাকেনা।
জগন্নাথবাড়ি সড়কের জয় স্টোরের জয় বললেন, সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। নির্দিষ্ট করে বলার মতো কোনো পণ্য নেই যে, এটার দাম বেড়েছে বা এইটার দাম কমেছে।
পুরাতন জেল রোডের ব্যবসায়ী শঙ্কর রঞ্জন দাস বললেন, পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারেও মন্দা চলছে। হঠাৎ করে কিভাবে দাম বৃদ্ধি পায় আমরাও বুঝি না। সামনে আরও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার খবর আসতেছে। কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না তা দেখা উচিত সরকারের।