বাজারে মাছ, মাংস, সবজির দামও বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
চাল, ডাল ও তেলের পাশপাশি বাজারে মাছ, মাংস ও সবজির দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারের সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই তাদের বাড়তি দামে অধিকাংশ পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আয় কারও বাড়েনি এতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জানা যায়, সম্প্রতি উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় ধান ও সবজির ক্ষতি হয়। কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের বন্যায় প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়।
ইব্রাহিমপুরের সবজি বিক্রেতা মতলিব মিয়া ও আব্দুল জলিল জানান, আগে চিচিঙ্গা প্রতি কেজির দাম ছিল ৩০/৪০ টাকা এখন বেড়ে হয়েছে ৪০/৫০ টাকা। ঢেঁড়স কেজি প্রতি দাম ছিল ১৫/২০ টাকা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ৩০/৪০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটা সবজির দাম বেড়েছে।
জেল রোড এলাকার সবজি বিক্রেতা ফজর আলী বলেন, আমরা কাচারি এলাকা থেকে ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়স, লগি উড়ি, কাঁকরোল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে বিক্রি করি। আগে চাহিদা মতো সব সবজি পাওয়া যেত, দামও কম ছিল। এখন সব সবজি পাওয়াও যায় না, দামও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বেচা লাগে। আগের তুলনায় প্রত্যেকটা আইটেমে কেজি প্রতি ১০/২০ টাকা করে বেড়েছে।
ওয়েজখালি বাসিন্দা রিক্সা চালক সবুজ মিয়া জানান, তিন সন্তান সহ আমরা পাঁচ জনের পরিবারের সংসার চালাতে খুব কষ্ট অয়। প্রতিদিন ৪০০/৪৫০ টাকা রোজি করি, মালিকের টাকা বাদ দিয়ে বাকী টাকায় চাউল কিনার পর মাছ তরকারি কিনতাম পারি না, বাচ্চা কাচ্চা লইয়া কেমনে চলি।
জামতলা এলাকার সবজি বিক্রেতা জয়নাল মিয়া বলেন, আমি সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শাক বিক্রি করি। বন্যায় ক্ষতি হওয়ায় এখন সব সবজি পাইনা, দামও বেশি।
শহরের মল্লিকপুর এলাকায় মনোহারি দোকানদার মাজহারুল ইসলাম বলেন, আগে মুন্সিগঞ্জের আলু বিক্রি করেছি ২০ টাকা কেজি দরে, এখন তা বেচতে হচ্ছে ২৫ টাকা কেজিতে।
ওয়েজখালি এলাকার মাংস বিক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এর আগে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আগামী ঈদের আগে দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান রাসেল মিয়া।
ওয়েজখালি বাজারে মনোহারি দোকানদার লিলি বেগম বলেন, সবকিছুর দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এতে আমরার বিক্রিও কমে গেছে। আগে সয়াবিন তেলের দাম ১৩০/১৪০ টাকা ছিল। মানুষ চাহিদা মতো কিনেছে। এখন তেলের দাম কেজি প্রতি ৭০/৮০ টাকা বেড়েছে। তাই কাস্টমাররা তাদের চাহিদাও কমাইছে।
সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আনসার মিয়া বলেন, আগে রুই, পুটা, কার্ফো মাছ প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ১৫০/১৬০ টাকা করে। এখন দাম বাড়ায় ২৭০/২৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি করা লাগে।