বাবার অপমানে ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগরে বাবার অপমান সইতে না পেরে সজিব নামের এক ছেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটুর বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে মধ্যনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বিষপানের পর সজিবকে উদ্ধার করে নেত্রকোনার কলকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সজিব মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের শালিয়ানী গ্রামের মঞ্জুল হকের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে সজিব শঙ্কামুক্ত রয়েছে।
১৬ বছর বয়সী সজিব তার বাবার সাথে মাছের ব্যবসায় সহযোগীতা করে। ওইদিন দুপুরে সজিব তার বাবার সাথে মধ্যনগর বাজারে যায়। এ সময় মধ্যনগর বাজারের দক্ষিণ দিকে ঠাকুরাকোনা ট্রলারঘাটে সেনাবাহিনী ত্রাণ বিতরণ করছিল। সেখানে মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষ হলে সজিব সেখানে পৌঁছে তাকে ত্রাণের প্যাকেট দেওয়ার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে এবং ত্রাণ না পেয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ারম্যান সজিবকে একটি প্যাকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চেয়ারম্যান সজিবকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্যাকেট সংগ্রহ করার জন্য বলেন। পরে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সজিবও ইউনিয়ন পরিষদে যায়। তখন সজিব কেন এমন বেয়াদবি করলো এবং এমনটি করার জন্য কে শিখিয়ে দিয়েছে তা জানতে চায় চেয়ারম্যান। কিন্তু সজিব কোনো সদোত্তর দেয়নি; বরং তখনও সজিব অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে চেয়ারম্যানকে। ততক্ষণে সজিবের বাবা ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। এমন সময় চেয়ারম্যান সজিবকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বললে সজিবের প্রতিবেশী ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী উসমানের অনুরোধে সজিবকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়। তখন সজিবের বাবা সজিবকে চড় থাপ্পড় দিয়ে শাসন করে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আলী উসমান। তিনি বলেন, আমার অনুরোধে চেয়ারম্যান সজিবকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।
কিন্তু সজিবের বাবা মঞ্জুল হকের দাবি, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে সজিবকে সবার সামনে মারধর করেছে এবং তাকে (মঞ্জুল) বাবা তুলে গালিগালাজ করেছে। আর এই অপমান সইতে না পেরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেরিয়ে সজিব গিয়ে বিষপান করে এবং সড়কে পড়ে চটফট করতে থাকে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে স্পিডবোটে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, ‘সজিবকে মাদকাসক্ত বলে মনে হয়েছে। তাকে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম। সজিবের বাবা সজিবকে সবার সামনে চড় থাপ্পড় দিয়ে শাসন করেছে। একটি কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় পরে বিষপানের নাটক সাজিয়ে আমাকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’
মধ্যনগর ওসি জাহিদুল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’