বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, নেই সচেতনতা

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গত সোমবার ও মঙ্গলবার আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরুত্ব মানছেন না কেউ। এমন মন্তব্য সচেতন মহলের। শহর ও গ্রাম-গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে প্রচারণা বাড়ানোর দাবি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের।
বিভিন্ন উপজেলার বা শহরতলীর গ্রাম থেকে আসা মানুষজন শহরে প্রবেশ করতে হয় নৌকা বা গাড়ি দিয়ে। নৌকায় আসলে দেখা যায় কারো মুখে মাস্ক নেই। গাড়ি করে আসলে দেখা যায় অনেকের মুখে মাস্ক নেই। শহরের আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায়, বাস স্টেশন, নৌকাঘাট প্রভৃতি এলাকা দিয়ে মানুষজন শহরে প্রবেশ করার সময় মাস্ক বর্জনকারীর প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিলে অবশ্যই সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, এমন মন্তব্য সচেতন একাধিক ব্যক্তির।
সুনামগঞ্জ পৌরশহর, শহরতলী এবং বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে গত বছরের মতো মানুষের মধ্যে করোনা প্রতিরোধে প্রচারণা নেই বললেই চলে। করোনা প্রতিরোধের নিয়ম বিধি এখন কেউ মানতে চায় না। গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারে চলছে মানুষের অবাধ বিচরণ। গ্রাম থেকে শহরে আসলেই মাস্ক ব্যবহার করেন কিছু মানুষ। তবে শহরেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেন না।
মাস্ক ব্যবহারকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, মাস্ক বর্জনকারীরা যেখানে সেখানে কাঁশি, হ্যাঁচি দেন, থুথু ফেলেন। এই কারণে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আগে অনেকের মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার থাকতো। বাজার থেকে কিনে নিজের সাথে রাখতেন সযতেœ। দোকানপাটে বেড়িকেট দিয়ে মাল বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের সামনে জটলা পাকাতে দিতেন না ক্রেতাদের। এখন এমন সচেতনতার কথা কেউ বলে না। এভাবে চলায় মনে হয় আমরা করোনা মুক্ত হয়েছি। আসলে নতুন করে আমরা করোনা যুক্ত হচ্ছি। করোনার ভয়াবহ রূপ ধারণের আগে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা আছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডেটল ও সেভলন সাবান এবং হ্যান্ডগ্লাপস্ কিনে নিতে দোকানে আসতেন ক্রেতারা। এখন এসব জিনিস কিনে নেন না কেউ। করোনা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনাও কমে গেছে। গতবারের চেয়ে এবার সুনামগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে এমন আশংকা তাদের।
শহরের বাসিন্দা অ্যাড. নুর হোসেন বলেন, আমি সকালে উঠে বাসার ভেতরে বাইরে পরিচ্ছন্ন করি। আমাদের সুরক্ষায় সেভলন, ডেটল সাবান, স্যানিটাইজার ব্যবহার করি। মেহমান আসলে স্যানিটাইজার দেই। বাসায় আসলে এসব দিলে কেউ বিরক্ত বা রাগ করার কোনো বিষয় নয়। আপনি আমি সকলে মিলে সুরক্ষা থাকাটাই সচেতনতা। ঘরের বাইরে গেলে সুরক্ষিত থাকতে এসব ব্যবহার করি পরিবারের সবাই। এটা এখন আমাদের ভাল অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষক পলি রায় বলেন, শহরের মানুষের মধ্যে এবার সচেতনতা অনেকটা কমেছে। এই কারণে গ্রাম-গঞ্জে করোনার প্রভাব নিয়ে কেউ চিন্তা করেন না। এভাবে চলা উচিৎ নয় বরং সংক্রমণ থামাতে প্রয়োজনীয় নিয়ম বিধি মেনে চলা উচিৎ।
সদর হাসপাতালের ডাক্তার সৈকত দাস বলেন, করোনা প্রতিরোধে পারিবারিকভাবে সচেতনতার অভ্যাস গড়ে তোললে শিশুরাও তা দেখে শিখবে। শুধু করোনাকালীন সময়ে নয়, বরং সব সময় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে অনেকটা নিরাপদ জীবন যাপনও করা যায়। এই জন্য মাস্ক ব্যবহারের মতো একটি ভাল অভ্যাস গড়ে তোলা সকলের প্রয়োজন।