বিকল্প সড়ক না করেই ভাঙা হলো সেতু

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দীর্ঘ বছর ধরে নড়বড়ে ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামলাবাজ ও নলগড়া গ্রামের মধ্যবর্তী শয়তানখালী খালের ওপর অবস্থিত সেতু। গত ১ জুলাই এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেতুর দুই পাশে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতেই থাকে। ফলে যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
গত ১৪ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খয়েরদিরচর আলিম মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে পুনরায় সেতুটির অবস্থা দেখে বিস্মিত হন। এর পরের দিন তিনি (ইউএনও) উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীকে যানবাহন চলাচল বন্ধে সেতুর দুই পাশের এ্যাপ্রোচ কিছুটা কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেন। গত শনিবার এলজিইডির নিযুক্ত লোকজন সেতুর দুই পাশের মাটি কিছুটা কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সেতুর মাঝখানে কিছু অংশ ভেঙে দেয়। কিন্তু প্রকৌশলী দাবি করেছেন, তারা নয়; স্থানীয় লোকজন অতি উৎসাহী হয়ে সেতুর মাঝখান ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় সেতুর অ্যাপ্রোচ কাটার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি ফাতেমানগর গ্রামের সাকো মিয়া জানিয়েছেন, এলজিইডির নির্দেশেই তারা এ কাজ করেছেন। তবে ভুল করে সেতুর মাঝের অংশ ভেঙেছেন।
এদিকে যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি আরও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাতের বেলায় চলতে গিয়ে সেতুর মধ্যখানের ভাঙা অংশে পা পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর সাথে দেখা করে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৭০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করে। এরপর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করায় সেতুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এ সেতু দিয়ে কামলাবাজ, নলগড়া, খয়েরদির, আবুয়ারচর, লংকাপাথারিয়, বাখরপুর, রাজাপুর, সলপ, ভাটাপাড়া গ্রামসহ আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘গ্রামের লোকজন সেতুটির কিছু অংশ ভেঙেছে। আপাতত সেতুর দুইপাশে যানবাহন রেখে চলাচলের জন্য তাদের (চালক) বলা হয়েছে। সেতুর নিচ দিয়ে দ্রুত রাস্তা করে দেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘যাতায়াতের জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’