বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জামালগঞ্জবাসী

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জেলার সবচেয়ে বড় বাজার নদী বন্দর হিসেবে খ্যাত সাচনা বাজারের ব্যবসায়ীসহ জামালগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্ধেক সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একদিকে ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়া অন্যদিকে ট্রান্সফরমার, লাইন ও খুঁটির যেকোন সমস্যা উত্তোরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতির অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে বিদ্যুৎ গোলযোগের সমস্যায় পড়ে অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিয়ে তা সমাধানে ঘন্টার পর ঘন্টা এমনকি দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুতের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। এ অবস্থা নিয়মিতই হয়ে গেছে সম্প্রতি।
‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে জামালগঞ্জের অনেক অজপাড়াগাঁয়ে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কিন্তু এই উপজেলায় বিদ্যুৎ যন্ত্রণা অন্য যে কোন উপজেলার চেয়ে বেশি। একদিকে বিদ্যুৎ থাকে না, আরেকদিকে প্রায় জায়গাতেই ট্রান্সফরমারের সমস্যা। অনেক গ্রামেই ট্রান্সফরমারের ব্যারেল পড়ে যায় কিংবা কাডআউট নষ্টসহ নানা সমস্যা লেগেই থাকে। সাধারণ মানুষের অভিযোগের পরও এগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
সাচনা বাজার ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের বিমল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় পড়েছেন তারা। এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না দিনের অর্ধেক সময়। এর মাঝে গ্রামের উত্তর মাথার লোকেশ দাসের বাড়িতে যে ট্রান্সফরমার আছে, তার একটি যন্ত্র কয়দিন পর পর বিকল হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ করতে করতে যেও ঠিক হয়, এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার একই সমস্যায় পড়তে হয় তাদেরকে। এর জন্য লাইনম্যানেরা অফিসে গিয়ে বারবার নষ্ট হওয়া কাডআউটটি পরিবর্তন করে নতুন কাডআউট লাগানোর কথা বলতে বলে। সে অনুযায়ী অফিসে গিয়ে কাডআউটের ব্যাপারে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত সেটি লাগানোর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের শাহজাহান সিরাজ বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় খাবারে বসতেই কারেন্ট চলে যায়, আসে প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর। এর আগে সন্ধ্যা মাগরিবের আযানের পরপর কারেন্ট নিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক রাখে। রাতে আর কারেন্ট এসেছিল কি-না জানি না। পরদিন সকাল অনুমান ৮টা থেকে বেলা প্রায় পৌনে ১টা পর্যন্ত কারেন্ট ছিল না। এরপর বাজারে চলে আসার আগ মুহূর্তে কারেন্ট আসে। কারেন্টের এই ভেল্কিবাজি ভালো লাগছে না। এ রকম হলে তো কুপি বাতিই ভালো ছিল।
সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী সুনির্মল হালদার জানিয়েছেন, দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। বাকি সময় যতটুকু থাকে তাও বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় গ্রাহকদের। গত মাসখানেক আগে বিদ্যুতের মেইন খুঁটি থেকে আমার দোকানে আসা লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। এতে দোকানে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করতে থাকে। এই সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ অফিসে চার-পাঁচদিন যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে ঘনিষ্ঠ একজনকে দিয়ে ফোন দেই। তিনি কড়া ভাষায় কিছু কথা বললে পরদিন সকালে এসে লাইনম্যানেরা সমস্যার সমাধান করে দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (৪নং) এলাকা পরিচালক ও সাচনা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, জামালগঞ্জ হাওরবেষ্টিত অনেক বড় একটি উপজেলা। এখানে যে লোকবল আছে তা দিয়ে পুরো উপজেলা সামলানো সম্ভব হয় না। তাই বিদ্যুতের ত্রুটি লেগেই থাকে। আমি সুনামগঞ্জে সমিতির মাসিক সভায় সমস্যা সমাধানের কথা উপস্থাপন করেছি। জামালগঞ্জকে জোনাল অফিসের আওতায় এনে সাচনা বাজারে একটি সাব স্টেশন করার দাবিও জানিয়েছি। এগুলো করলে হয়তো সমস্যা কিছুটা কমে আসবে।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম সুদীপ কুমার বিশ^াস বললেন, জামালগঞ্জের বিশাল হাওর এলাকায় বিদ্যুতায়ন হয়েছে। ওখানে গ্রাহক হয়ে গেছে ৪২ হাজার। ভৌগলিক অবস্থান একদিকে নেত্রকোণা, আরেকদিকে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর। রাতে কোন এলাকা থেকে অভিযোগ হলে নৌকা পাওয়াও দুরহ হয়। যোগাযোগর অব্যবস্থায় অনেক সময় আমরাও আখাঙ্খিত সার্ভিস দিতে পারি না। জামালগঞ্জের সাচনা একটা বিশাল বাজার। আমরা ওখানে একটি বড় ধরনের জোনাল অফিস করার প্রস্তাব দিয়েছি। জোনাল অফিস হলেই এসব সমস্যা থাকবে না।