- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ঈদুল আজহা

এস ডি সুব্রত
ঈদ মানে খুশি। ঈদুল আজহা হচ্ছে ত্যাগের খুশি। মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য যে উৎসর্গ তাই কোরবানি। মুসলিম ধর্মমতে ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের প্রিয় পুত্র ইসমাইল কে উৎসর্গ করেছিলেন নবী ইব্রাহিম (আ.)। সেই থেকে ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। হিজরী সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সারা বিশ্বের মুসলমানগণ ঈদুল আজহা উদযাপন করে পশু কোরবানির মাধ্যমে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য উৎসর্গ করার নামই কোরবানি। এ ঈদের মূল প্রতিপাদ্য হল ত্যাগ করা। এ ঈদে মুসলমানগণ ফজরের পর দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করে এবং নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, মহিষ, উট, ভেড়া, ছাগল, মহিষ বা দুম্বা কোরবানি করে। ঈদুল আজহা বিশ্বের সকল মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ঈদুল আজহা পালিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ নামে সর্বাধিক পরিচিত। কিন্তু সব দেশে একই নামে পরিচিত নয় ঈদুল আজহা। আমাদের বাংলাদেশের মত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ
ইন্দোনেশিয়ায়ও কোরবানির ঈদ ঈদুল আদহা নামে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা ঈদের জামাতে অংশ নেয়। পশ্চিম আফ্রিকায় এ ঈদ ‘তাবাসকি’ এবং নাইজেরিয়ায় ‘বাব্বার সাল্কাহ’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া, সিরিয়া, মিশর, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় বলা হয় ‘এল কিবির’ যার অর্থ বড় ঈদ। কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ায় বলা হয় ‘সিদওয়েনি’। ইরানে এ ঈদকে বলা হয় ‘ঈদ-এ-কুরবান’। আলবেনিয়া, কসোভো ও বুলগেরিয়ায় কোরবানির ঈদ কে বলা হয় ‘কুরবান বাজরাম। ভারত ও পাকিস্তানে কোরবানির ঈদকে বলা হয় ‘বড়া ঈদ’ যার অর্থ বড় ঈদ। ভারতে সংক্ষেপে বলা হয় বকরিদ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বলা হয় বকরা ঈদ। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বকরি বা ছাগল কোরবানি করা হয় বলে বকরা ঈদ বা বকরিদ বলা হয়। শ্রীলংকায় কোরবানি ঈদকে বলা হয় ‘হাজিজ পেরু নাল’। আবার তুরস্কে বলা হয় ‘কোরবান বাইরামি’। রুশ ভাষায় বলা হয় ‘কুরবান বাইরাম’। চীনে বলা হয় ‘ঈদ আর গুরবান’ বা ‘ঈদ আর কুরবান’। আফগানিস্তানে আবার বলা হয় ঈদে কুবরান বা ‘কোরবানি আখতার’। কাজাখস্তানে ‘কোবরান এইথ’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ভাবে কোরবানি ঈদ পালন, হলেও এর মূল উদ্দেশ্য এক। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ত্যাগ করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান করা।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ।

  • [১]