বিশ্বম্ভরপুরে ইয়াবার বড় চালান আটক, মাদক নির্মূলে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

হিরোইনের পর মরণঘাতী ও ভয়ানক নেশ্রদ্রব্যের স্থান নিয়েছে ইয়াবা টেবলেট। ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এখন বিশেষভাবে ইয়াবা অনুপ্রবেশের একটি বড় জোন হয়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জ র‌্যাব ৯, সিপিসি ৩ একটি বড় আকারের ইয়াবার চালান আটক করেছেন বিশ^ম্ভরপুর সীমান্তে। শুধু পরিত্যক্ত ইয়াবা নয়। বমাল ধরেছেন তাঁরা। আটক ইয়াবার পরিমাণ ৫ হাজার ২ শ’ পিস। এর সাথে ধরা পড়েছে ২ মাদক ব্যবসায়ী। ইয়াবাসহ এই মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রাম থেকে। এজাহার সমেত মালামাল ও আটক ব্যবসায়ীদের বিশ^ম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। বেশ কিছুদিনের মধ্যে মাদকদ্রব্যের এমন একটি বড় চালান আটক করতে সক্ষম হল র‌্যাব। এজন্য তাদের অভিনন্দন।
মাঝেমধ্যে সীমান্ত এলাকায় আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে চোরাচালানের মাল ধরা পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত হিসাবে এইসব মালামাল আটক করা হয়। কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রে ধরা পড়ে না কোন চোরাকারবারী। এই ব্যক্তিবিহীন মালামাল ধরা পড়ার কারণে সীমান্তের চোরাচালান বাণিজ্যে কোন প্রভাব পড়ে না। বন্ধ হয় না অবৈধ বস্তুর আদান-প্রদান। র‌্যাব প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছে। ইয়াবার সাথে এর কারবারীদেরও ধরতে পেরেছে। এখন এই মাদক ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এর উৎস ও জাতি-বিনাশী মাদক ব্যবসার সাথে আরও উপরের স্তরে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ঠিকুজি অনুসন্ধার করার দায়িত্ব পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমরা মনে প্রাণে চাই মাদকের যাবতীয় সরবরাহ বন্ধ হোক। কারণ এই মাদক আমাদের তরুণ যুব সমাজকে সর্বনাশের চূড়ান্ত স্তরে ঠেলে দিচ্ছে। অফুরন্ত সম্ভাবনাময় তরুণদের প্রাণশক্তি কেড়ে নিচ্ছে এই সর্বনাশা নেশা।
প্রশাসনিকভাবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল বেশ আগে। এ নিয়ে বেশ প্রচার-প্রচারণাও হয়েছিল। আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম সীমান্ত সংলগ্ন এই উপজেলাটিকে আক্ষরিক অর্থে মাদক মুক্ত করা গেলে জেলায় মাদকের অনুপ্রবেশ কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু কিসের কি। মাদকমুক্ত হিসাবে ঘোষিত এই উপজেলায় মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা বা চোরাকারবার কোন কিছুরই হ্রাস ঘটেনি। ৫ হাজার ২ শ’ পিস ইয়াবা আটক এর বড় প্রমাণ। প্রশাসনকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব কর্মকা- থেকে সরে এসে আন্তরিক হতে হবে। শুধু প্রশাসনের আন্তরিকতাই যথেষ্ট নয়। ভীষণ রকম আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দায়িত্ব সবচাইতে বেশি। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে হবে। কারণ স্থানীয়ভাবে এসব অবৈধ কারবারের সাথে কারা জড়িত থাকে তা এই জনপ্রতিনিধিদের অজানা থাকার কথা নয়। মাদক বিরোধী কর্মকা-কে সর্বস্তরে একটি আন্দোলনের মত করে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাদক দেখা মাত্র সকলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, সর্বতোভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করবেন; এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলেই কেবল মাদক বিরোধী কর্মকা-ে প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব। দুঃখজনক সত্য হল, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যায়নি। আদৌ তৈরি করা যাবে কিনা তাও সন্দেহের বাইরে নয়। তবে সর্বাবস্থায় আমরা ভালটাই কামনা করি। এজন্যই ইয়াবার বড় চালান আটক হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের আমরা ধন্যবাদ দেই।
বিশ^ম্ভরপুরে র‌্যাব ২ মাদক ব্যবসায়ীসহ যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আটক করেছে তাদের বিরুদ্ধে যদি দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ হয় এবং তাদের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসার অলি-গলি সম্পর্কে অবগত হয়ে মূল উৎস বন্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তাহলেই কেবল প্রত্যাশা করা যায় আমাদের জনপদগুলো মাদকের ভয়াল বিস্তার থেকে রক্ষা পাবে। আমরা আশা করি একটি দেশের তরুণ যুব সমাজকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার মাদক ব্যবসা নির্মূলে এর সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।