বিশ্বম্ভরপুরে কমছে বন্যার পানি বাড়ছে দুর্ভোগ

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনো হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার ফতেপুর, সলুকাবাদ, দক্ষিণ বাদাঘাট সহ পলাশ ইউনিয়নের আংশিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চারদিন ধরে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবে পানি কিছুটা কমায় উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবারহ চালু করা হয়েছে। এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। মাটির চুলোয় পানি ঢুকে ভিঁজে যাওয়ায় লাকড়ি দিয়ে রান্নাও সম্ভব হচ্ছেনা।
একজন কৃষক জানান, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়ে ৩০০০ টাকা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে প্রবলভাবে, এলাকার সব টিউবওয়েল ডুবে গেছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ছিল রাতের অন্ধকারের একমাত্র ভরসা। দেখা দিয়েছে মোমবাতি সংকটও। রাতে ডাকাতের আতংক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা জুড়ে।
উপজেলা ব্র‍্যাক অফিসের মাধ্যমে উপজেলার ফতেপুর, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন ও পলাশ ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় ২০০০ বন্যার্থ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও ত্রাণ সামগ্রি বিতরণে ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, বন্যা শুরু থেকেই আমরা সারাদিন ব্যাপী ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করছি, মানুষদের উদ্ধার করছি। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ সংকটে কাজ করে যাবো।
উল্লেখ্য যে ২৪ তম বিসিএস প্রশাসন অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে বন্যার্থদের মাঝে ৫০০ খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দীনের উদ্যোগে এ ত্রাণ সামগ্রির ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ৮০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৮ লক্ষ টাকা, ৭০০ প্যাকেট খাদ্য প্যাকেট, গো খাদ্যের জন্য ২৬ হাজার টাকা বন্যার্তদের জন্য সরকার কর্তৃক পাওয়া গেছে।