বিশ্বম্ভরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি

আকরাম উদ্দিন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ছাতারকোণা-মাছিমপুর সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে এখন বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে আছেন। সড়কে আর.সি.সি ঢালাইসহ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, মানুষ ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। গত তিন বছর আগে এই সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একারণে সড়কটি দ্রুত ভেঙে গেছে। সড়কের অর্ধ শতাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে সড়কে। বুধবার দুপুরে শাহাদাৎ হোসেন নামের একজন চালকের একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে যায়। স্থানীয় ৬-৭ জন মিলে মালবাহী এই অটোরিকশা তোলতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এই কারণে তার গাড়ির ভেতরে থাকা মাছ নষ্ট হয়ে যায়। এতে অন্তত দশ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ সময় শাহাদাৎ হোসেন জানান, তাঁর অটোরিকশায় মাছ ভর্তি ছিল। কিন্তু সড়কের মেঝেতে এতো গভীর গর্ত তিনি জানতেন না। গাড়ি চালিয়ে এসেই গভীর গর্তে পড়ে যান তিনি। এভাবে এই দীর্ঘ সড়কে অসংখ্য গর্ত রয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষ সড়কে চলাচলে বিপদের সম্মুখিন হচ্ছেন। সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
অটোরিকশায় থাকা সুজন মিয়া ও আকিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছাতারকোণা-মাছিমপুর সড়ক। গত তিন বছর আগে নিম্নমানের কাজ হয়েছিল এই সড়কে। তাই সড়কটি বেশিদিন টিকে থাকে নি। এমনভাবে নষ্ট হয়েছে যে, যানবাহন ও মানুষ চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। এই সড়কের দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী আবুবকর জানান, ছাতারকোণা-মাছিমপুর সড়ক এলাকার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মাছিমপুর গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ছাতারকোণা-মাছিমপুর সড়ক শতাধিক স্থানে ভাঙা। অর্ধ শতাধিক বড় আকারের গর্ত রয়েছে এই সড়কে। এসব গর্তে যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছে। সড়কের চলাচলকারী পথচারীরা সড়কের পাশে দিয়ে হেঁটে চলাচলের সময় গাড়ি চলাচলে কাদা ছিটকে পড়ে জামা-কাপড় নষ্ট হয়। নিম্নমানের কাজ করায় দ্রুত সড়কটি ভেঙে গেছে। জরুরিভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের দাবি আমাদের।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, করোনাকালীন সময়ে কোনো রাস্তাঘাটের কাজ হচ্ছে না। আমার উপজেলার অনেকগুলো সড়কের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন লকডাউন শেষ কাজের অনুমোদন হয়ে আসলে সংস্কার কাজ শুরু হবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফর আলী বলেন, ছাতারকোণা-মাছিরপুর সড়কের বেহাল অবস্থা। এই সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কের সংস্কার কাজ করা জরুরি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।