বিশ্বম্ভরপুরে পিতা কর্তৃক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টা- লম্পট পিতা জীতেন্দ্র’র দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করা উচিৎ

সন্তানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ভরসার আশ্রয়স্থল হলো পিতা-মাতার সান্ন্যিধ্য। এই একান্ত আশ্রয়ের জায়গায় যখন কোনো সন্তানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, উপরন্তু পিতা কর্তৃক নিগৃহীত হয় সন্তান; তখন বুঝতে হবে, প্রথমত সমাজের অবক্ষয় চরমে পৌঁছে গেছে, দ্বিতীয়ত ওই পিতা আসলে পিতা হওয়ার কোনোরূপ যোগ্যতাই রাখে না। এরকম পাষ-, বর্বর ও অমানুষ পিতার মনুষ্য সমাজে থাকার কোনো অধিকার নেই। তার স্থান হওয়া উচিত নির্জন কারাকক্ষ এবং বিচারিক পন্থায় তার উপযুক্ত সাজা প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত অন্যদিকে সামাজিকভাবে ওই নরাধমকে সবধরনের বয়কট করাটাও সমাজের দায়িত্ব। এই কথাগুলো মনে হলো, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে ঘটে যাওয়া এক পাষবিক ঘটনার সংবাদ দেখে। পত্রিকার বার্তাবিভাগ ওই সংবাদটিকে পেছনের পাতায় স্থান দিয়েছেন। সম্ভবত, এই ধরনের সংবাদ দ্বারা সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে, এমন আশংকা থেকেই তারা সংবাদটির এমন ট্রিটমেন্ট দিয়েছেন। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়?
সংবাদ অনুসারে জানা যায়, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের জীতেন্দ্র দেবনাথ নামের এক পাষ- পিতা নিজের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সভ্যতার কলঙ্করূপ এই ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৮ মে রাতে। কোনোভাবে কন্যাটি পিতার ধর্ষণচেষ্টা থেকে রক্ষা পায়। ঘটনার পরপরই কেন মামলা হলো না? এক্ষেত্রে অনুমান করতে কষ্ট হয় না, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক মানসম্মানের কথা বিবেচনা করার ‘সামাজিক প্ররোচনা’য় শিশুটির মা ও আত্মীয় স্বজন প্রথমেই বিষয়টি প্রকাশ বা আইনের আওতায় না এনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। কী সেই নিষ্পত্তি? সংবাদে সেই তথ্য নেই। আমরা অনুমান করতে পারি, সামাজিকভাবে ক্ষমতাবানরা শিশুর মাকে তথাকথিত মানসম্মান এর দোহাই দিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাঁধা দিয়েছিলেন। একজন মা যিনি অসহায় এক মেয়ে, তার পক্ষে এই সামাজিক চাপ অগ্রাহ্য করা কঠিন বৈকি। তবে সামাজিক সালিশে যে নিষ্পত্তির শর্ত নির্ধারিত হয় তাও রক্ষিত না হওয়ায় অবশেষে গত ১৭ জুন শিশুর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লম্পট স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এক মাস পরে হলেও নির্যাতিত শিশুর মা যে সাহস দেখিয়ে মামলা করতে পেরেছেন এজন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারণ পুরুষতান্ত্রিক অহমে ভরা এই সমাজ ব্যবস্থায় একজন নারীর পক্ষে আরেক শিশু নারীর নির্যাতনের বিচার চাওয়া সত্যিকার অর্থেই সাহসের কাজ বটে। কিন্তু বিচার চাইলেই কি হয়? বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা যদি সমান আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে সুবিচার নিশ্চিত করেন তাহলে কেবল স্বস্তি প্রকাশ করা যেতে পারে।
২৩ জুন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই পাষবিক ঘটনার বিষয়ে ক্ষুব্ধ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আরেক সংবাদ থেকে জানা যায়। সভায় মামলার আসামী লম্পট জীতেন্দ্র’র গ্রেফতার না হওয়ার প্রসঙ্গ সামনে এনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সক্ষেদে বলেছেন, ‘‘পিতার দ্বারা শিশু সন্তান ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনা কলঙ্কজনক। এতে দেশ ও সমাজ কলুষিত হবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’’। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উপর্যুক্ত কথার সাথে আমরা সম্পূর্ণ একমত। এমন লম্পট পিতার শান্তি না হওয়া সমাজের একটি বড় ব্যর্থতারূপেই চিহ্নিত হবে। তাই কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী লম্পট পিতা জীতেন্দ্র’র বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা যথারীতিতে অগ্রসর করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নতুবা এক অবুঝ কন্যা ও তার অসহায় মার ক্রন্দন ভরা হাহাকার আমাদের চলমান সময়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখবে অনাদি ভবিষ্যৎকালের জন্য।