বিশ্বম্ভরপুরে বন্যার পানি কমছে, বাড়ছে দুর্ভোগ

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আজ বন্যার পানি কিছু কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ। বন্যায় ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়াসহ সর্বত্রই পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়েছিল এখনও অনেক স্থানে হাঁটু পানির উপরে রয়েছে। যোগাযোগ বিছিন্ন অবস্থায় জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলায় ১ম দফা বন্যার পানি কমতে না কমতেই ২য় দফা বন্যায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ খুবই ঝুঁকির মধ্যে জীবন যাপন করছেন। জনজীবনের পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে অনেকেই। বন্যায় উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
জানা যায় ২৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৭৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি ঢেউয়ের কবলে অনেক স্থানে ভেঙ্গে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর রাস্তাসহ উপজেলার অভ্যন্তরের অনেক রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের মৌসুমী অনেক শাক সবজি ফসল ও চারার ক্ষতি হয়েছে। মৎস্যজীবীদের অনেক পুকুর থেকে মাছ পানিতে ভেসে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাট বাজারসহ মানুষের দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যদি পানি বেড়ে আবারও বন্যার অবনতি ঘটে তাহলে জনজীবনের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের আতংকে মানুষ জর্জরিত, তার উপর আবার ভয়াভহ বন্যার করাল গ্রাস যেন, মরার উপর খাড়ার ঘা।
বন্যা পরিস্থিতির শরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক বন্যাদুর্গত মানুষের খোজ খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছন বলে জানা যায়। গত ২দিন যাবৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানিবন্দি ফতেপুর ইউনিয়ন, সলুকাবাদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে নৌকাযোগে আশ্রয় কেন্দ্রে ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যহত রেখেছেন এসময় ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা জনস্বাস্থা বিভাগের উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মৃদুল কান্তি সরকার জানান, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ও পানি বন্দি মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে টয়লেট ও টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে।