বিশ্বম্ভরপুরে বাদামচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি

সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধান ও সবজির পাশাপাশি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাদামচাষীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পানি নামতে দেরি হওয়ায় উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন, ফতেপুর ইউনিয়ন ধনপুর, সলুকাবাদ ও পলাশ ইউনিয়েনের বাদামচাষীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অতিবৃষ্টি ও ঢলের আগে যারা কমবেশি কিছু বাদাম তুলেছিলেন তাদেও বাদামও রোদ না পেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
জানা যায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সবব্জি ও ধানের পাশাপাশি বাদাম ক্ষেতগুলো পানির নীচে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ অল্প কিছু বাদাম উঠালেও রোদের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যায়। এখন পানি কমে বাদাম গাছগুলো আস্তে আস্তে ভেসে উঠলে ও বাদাম গাছগুলো দীর্ঘ ১০/১২ দিন পানির নিচে থাকায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
শক্তিয়ারখলা গ্রামের বাদাম চাষ হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এবার ৫ কেয়ার জমিতে বাদাম চাষ করেন। ২ কেয়ার জমির বাদাম তোলার পর হঠাৎ করে পানি চলে আসে। রোদের অভাবে তোলা বাদামগুলো নষ্ট হয়েছে। বাকি ৩ কেয়ার জমির বাদাম পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার বাদামের বাজার মূল্য ভালো ছিল। বর্তমানে ২ হাজার ২ থেকে ৩ হাজার ৫ শত টাকা প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে। আমাদের ভাগ্য খারাপ অসমযয়ে পানি এসে সব আশা ভরসা ভেস্তে গেল।
সিরাজপুর গ্রামের সাহাজ উদ্দিন জানান, এবার আমি ৮ কেয়ার জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। পুরো জমিই পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নয়ন মিয়া জানান, এবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষাবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমির বাদাম নষ্ট হয়েছে। এছাড়াওদুই হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে।