বিশ্বম্ভরপুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে ৫০ পরিবারের

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বম্ভরপুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে গৃহহীন, ভূমিহীন ৫০ টি পরিবারের। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি ঘর নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া ২য় পর্যায়ে ২০টি ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে ব্যয় হচ্ছে। উপজেলার কাপনা গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ১৬টি, মাঝাইর গ্রাম এলাকায় ১৩টি ও মহাগড়ায় ১টি সহ মোট ৩০টি ঘর দ্রুত নির্মিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার গৃহহীন, ভূমিহীন অসহায় দরিদ্র মানুষকে শনাক্ত করে ঘরগুলো দ্রুত নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি ঘর সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ ঘর নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট লোকজন দ্রুত ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন করছেন
মাঝাইর গ্রাম এলাকায় গৃহহীন, ভূমিহীন প্রতিবন্ধী আ. ছাত্তার জানান, আমি কল্পনাও করিনি যে, ভূমিসহ পাকাঘর পাব। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন।
একই অনুভূতি ব্যক্ত করেন ভূমিহীন, গৃহহীন সুলতান মিয়া (৭২), আ. আলিম (৭৬), আমির হোসেন, হামাদ মিয়া, রেনাল উদ্দিন (৫৫), আঃ রাজ্জাক প্রমুখ। আ. আলিম বলেন, জীবনে কোনো ভূমি এবং ভালো পাকা ঘরের মালিক হতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী এ আশা পূরণ করাচ্ছেন এ জন্য দোয়া করি।
দুলাল মিয়া সহ প্রতিটি পরিবারের লোকজন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত আসেন। গতকালকেও এসে আমাদেরকে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করে গিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মাঝাইর গ্রামে, কাপনা গ্রাম এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত চলছে। প্রতি সুবিধাভোগীর জন্য দুটি করে করে কক্ষ (থাকার ঘর), ১টি রান্নাঘর ও ১টি করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, এ প্রকল্পের প্রতি আমাদের বিশেষ নজরদারী রয়েছে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সুবিধাভোগীদের মাঝে ঘরের চাবি তুলে দেয়া হবে।