বৃষ্টিতে স্থবির জনজীবন

সু.খবর রিপোর্ট
ভোর থেকেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রথম দিকে বৃষ্টির মাত্রা কম থাকলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে বৃষ্টির পরিমাণ। সাথে হাল্কা ও মাঝারি মানের বাতাস। লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না কেউই। জরুরি কোনো কাজে ছাতা নিয়ে বাইরে যেতে হচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনই দৃশ্য দেখা যায়। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বৃষ্টির কারণে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড সহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের জন্য মানুষকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি বাজারের ক্রেতার সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। বাজারগুলোতে সবজি ও মাছ বাজার ছিলো ক্রেতাশূন্য। ফলের দোকানীরা অলস সময় কাটিয়েছেন, গার্মেন্ট সেক্টরেও তাই। বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুরদের জীবনে।
সরেজমিনে উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলা বাজার ও আক্তাপাড়া মিনাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে ক্রেতাদের সংখ্যা নেই বললেই চলে। প্রশাসনিক ও অন্যান্য কারণে উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারে প্রতিদিনই মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। সোমবার ছিলো জনশূন্য। বৃষ্টির কারণে বাজারে মানুষ কম এসেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাজারে লোকসংখ্যা ছিলো হাতেগোনার মতো। একই অবস্থা আক্তাপাড়া মিনাবাজারেও। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোকশূন্য উপজেলার অপর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাজার পাথারিয়া ও নোয়াখালী।
পাগলা বাজারের কান্দিগাঁও গলিতে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের বাসা, ঝলক দাসের সবজির দোকান, আলেক মিয়া ও সুমন দেবের মুদির দোকানে ফরমায়েশি কাজ করেন রসুলপুর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। প্রতিদিন ১০/২০ টাকা করে একশ’—দেড়শ’ টাকা আয় করেন তিনি। সোমবার সারাদিন বৃষ্টির কারণে তিনি কোনো কাজ পাননি। খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। সুফিয়া বেগম বলেন, আনসিজনে বাদলি (বৃষ্টি) পড়েছে। সারা দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কাজ পাইনি। স্বামী ও বাড়ি—ঘর নাই। আরেকজনের বাড়িতে থাকি। রুজি না হলে আজ না খেয়ে থাকতে হবে।
দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা লোকমান আলী বলেন, দোয়ারাবাজার থেকে ভিজে সকালে সুনামগঞ্জে এসেছি। এখানে এসে কোন রিক্সা পাচ্ছি না। তাই দোকানের পাশে রিক্সার জন্য অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
পৌর শহরের রিস্কা চালক কবির মিয়া বলেন, সকাল থেকে ঠান্ডা বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজেই কোন রকম ১০০ টাকা রুজি করেছি। আর পারছি না, বাসায় চলে যাচ্ছি।
খালেদ এন্ড টুনি পরিবহনের সিএনজি অটোরিকশা চালক শামসুল হক ও লেগুনা চালক মামুন হোসেন বলেন, হঠাৎ করে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা—ঘাটে যাত্রী নাই। বৃষ্টি হলে লেগুনা—সিএনজিতে যাত্রীরা উঠতে চান না। যতদিন এমন পরিস্থিতি থাকবে চলতে ফিরতে আমাদের কষ্ট হবে।
ফল ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া, সবজি ব্যবসায়ী আকাব উদ্দিন, কলা ব্যবসায়ী জৈনিক মিয়া বলেন, বাজারে ব্যবসার অবস্থা চূড়ান্ত খারাপ। পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়ানো। গ্রাহকরা এতো দাম দিয়ে নিতে চায় না। এর মধ্যে অযাচিত বৃষ্টি। এখন তো বাজারে কাস্টমারই নাই। তাই আমরা বসে বসে কাক তাড়াচ্ছি।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত ও বিপর্যস্ত জনজীবন নিয়ে পাগলা বাজারের বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক শাকিল মুরাদ আফজল ফেসবুকে করা পোস্টে লিখেন, অনাকাঙ্ক্ষিত বারিপাতে ব্যবসা বাণিজ্য বিপর্যস্ত। সিত্রাং এগিয়ে আসছে এখনো, বিকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।