বৃষ্টি বাগড়ায় শ্যামাপূজা ও দীপাবলির আনন্দ ম্লান

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টিতে ফিকে হয়ে গেছে দীপাবলী ও শ্যামা কালীপূজার আনন্দ। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ওই দিনের আনন্দ আয়োজন থমকে দিয়েছে। সেই সাথে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি দীপাবলীর আলো উৎসবে জল ঢেলে দিয়েছে অসময়ে বেরসিক এই বৃষ্টি। এতে পুজো আয়োজকদের মাঝে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এছাড়া দীপাবলীর আলোক সন্ধ্যায় আনন্দে মেতে ওঠা শিশু-কিশোরদের মনেও হানা দিয়েছে বৃষ্টি। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ এর প্রভাবে এমনটা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও পৌরাণিক মতে, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। তাদের কাছে শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক। হিন্দুদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শ্যামাপূজা। এটি কালীপূজা নামেও পরিচিত।
পুজোর দিনে দীপাবলি উৎসবও উদযাপিত হয়। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর দিন দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসব শেষ হয়। দীপাবলির সন্ধ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাড়িঘর ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে প্রয়াত পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করে থাকেন। এবারের শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবে আনন্দ বৃষ্টি বাগড়ায় ম্লান হয়েছে।
উত্তর কামলাবাজ গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া রাজশ্রী আচার্য হৃদি বলেন, আজকে বৃষ্টির লাগি বাইরে বাইরনি যাইত না। বৃষ্টিতে সব ভিইজ্যা গেছে। সন্ধ্যার সময় দীপান্বিতার মুমবাতি ও তারাবাতি জ্বালাইয়া আনন্দ করতে পারতাম না। বৃষ্টিডা সব নষ্ট কইরা দিছে। তারপরও শ্যামা মায়ের চরণে প্রণতি জানাই।
জামালগঞ্জের উত্তর কামলাবাজ সর্বজনীন শ্যামাকালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অজয় রায় ও সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল হালদার জানিয়েছেন, এ উপজেলার তাদের আয়োজিত শ্যামাপূজাই সবচেয়ে বড়। তিনদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় সাজানো থাকে পুজো আয়োজন। প্রতি বছরই পুজোর আয়োজন ব্যাপকভাবেই করা হয়। গত দুই বছর করোনাসহ নানা কারণে সীমিত আকারে পূজা হলেও এ বছর আড়ম্বরপূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব মাটি হয়ে গেছে। এখন সবার মনমড়া অবস্থা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র আচার্য শম্ভু বলেন, বৃষ্টি দীপাবলীর আনন্দ রেশটাই থামিয়ে দিয়েছে। শ্যামা পূজানুষ্ঠানের যে প্রস্তুতি তাতেও মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ সময়ে বৃষ্টিটা কাম্য ছিল না, তারপরও প্রকৃতি তো তার অমোঘ রীতি অনুসরণ করবেই।