বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি

সু.খবর রিপোর্ট
‘ভ্যাকসিন হিরো সম্মান, স্বাস্থ্য সহকারীর অবদান’ এই স্লোগান নিয়ে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচিতে এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক (সদর) ও জেলা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক জাকির হোসেন, স্বাস্থ্য সহকারী শহিদুল সোহাগ, জেলা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব ফরিদুল ইসলাম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিনয় ভূষন চক্রবর্তী, রজত ভূষণ রায়, সহকারী মাসুক আহমেদ, মনিরুজ্জামান, পিযুষ কর, গৌরি ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ও মাঠ কর্মচারীদের আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তাদের দাবি, নিয়োগ বিধি সংশোধন সহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন গ্রেড ১৬ থেকে যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে আমাদের (স্বাস্থ্য সহকারী) বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। এছাড়া চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক আমাদের দাবি মেনে নিয়ে লিখিত সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। সে অনুযায়ী আমারা এখানো কোনো সুবিধা পাইনি। আমাদের এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চাই।
ছাতক
সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কর্মবিরতি শুরু হয়। এসময় উপজেলা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক নৃপেন্দ্র কুমার এষ, সদস্য সচিব আমিরল হক, সদস্য চমক আলী, পুলিন বিহারী দাস, স্বাস্থ্য সহকারী নাছির আলী, সফিকুর রহমান, সাইফুল আলম, ইউসূফ মিয়া, জয়দেব ভৌমিকসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দোয়ারাবাজার
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সামনে বাংলাদেশ হেলথ্ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন,বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিদর্শক সমিতি,বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাঠ কর্মচারী এ্যাসোসীয়েশন ও বাংলাদেশ হেলথ্ ইন্সপেক্টর সেক্টোরাল এসোসিয়েশন এর বাস্তবায়নে দাবী বাস্তবায়ন পরিষদের আয়োজনে কর্মবিরতিতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী এইচ এ মঈনুল ইসলাম, অশোক কুমার দাস, আয়েশা বেগম,আলাউদ্দিন নেছারী, রুনা বেগম, মিলন,ইউসুফ আলী, রঞ্জিত তহবিলদার, পার্থ রায়,নুরজাহান, এখলাছুর রহমান, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সেবরাজ, মো.লাল মিয়া, মো.সাইফুল ইসলাম, পিযুষ ভট্রাচায্য,জয়নাল আবেদীন।
জামালগঞ্জ
হেলথ এ্যাসিসটেন্ট জামালগঞ্জ শাখার আহবায়ক পুর্নেন্দ্র ভ্ট্রাচার্য্য , সদস্য সচিব মো:আবুল কালাম আজাদ বলেন- নিয়োগ বিধি সংশোধন সহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক , সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬ থেকে ১১ , ১২, ১৩ তম গ্রেডে উন্নতিকরন করা হোক। সকাল ৮ থেকে ৩টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল পরিনত হয়েছে। এ অর্জন আজকের স্বাস্থ্য সহকারীদের পরিশ্রমের ফসল । অথচ তাদের পরিশ্রমের মূল্যায়ন হচ্ছে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ৬ ডিসেম্বর এই স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন বৈষ্যমের নিরসনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। সেই থেকে ২০১৮ এর ২ জানুয়ারী ও চলতি বছরে ২০ ফেব্রুযারী দেয়া প্রধানমন্ত্রী সহ সকল উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়নের লক্ষ্যে এই দাবী না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। দাবী পূরনের যুক্তিকতা দেখিয়ে বক্তব্য রাখেন – জামালগঞ্জ শাখার যুগ্ম আহবায়ক তপন কুমার চক্রবর্তী ,আঞ্জুমানা আরা বেগম, খালেদা আক্তার, মঞ্জু চৌধুরী, প্রীতিরঞ্জন তালুকদার প্রমুখ।