বোমা মেশিন খুবলে খাচ্ছে পাহাড়ী নদী চলতি

বিশেষ প্রতিনিধি
ড্রেজার ও বোমা মেশিন খুবলে খাচ্ছে পাহাড়ী নদী চলতি। রাতভর শত শত অবৈধ বোমা মেশিন চালানোয় নদীর দুই পাড় ভাঙছে, ভাঙছে মুক্তিযোদ্ধার কবর স্থান, এমনকি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র ক্যাম্পও হুমকির মুখে। নদীর দুইপাড়ের জনবসতি এবং বিশ^ম্ভরপুরের বৃহৎ হাওর করচা রক্ষার আদাং বেরী বাঁধও নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে পুলিশ নদীতে অভিযান চালালেও পুলিশ আসার সংবাদ প্রভাবশালী বোমা মেশিন চালকরা জেনে যায় আগেভাগে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১২ টা থেকে শুরু হয় বোমা মেশিনের তা-ব। চলে সকাল ৮ টা পর্যন্ত। ডলুরা থেকে কোচগাঁও পর্যন্ত প্রতি রাতে এক থেকে দেড়’শ বোমা মেশিন এবং আদাং বেরী বাঁধের গোড়া থেকে আরও অন্তত. অর্ধ শতাধিক বোমা মেশিন প্রতি রাতে বালু উত্তোলন করে। এরা এখন নদীর তলদেশের চেয়ে পাড় কেটেই বালু তুলছে বেশি।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার কাইয়ারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী বললেন, ডলুরার গাজীর দোকানের পশ্চিম দিকে সারা রাত বোমা মেশিন চলে, কোন কোন সময় দিনেও চালায়। পুলিশ যখন নামে বড় বড় ব্যবসায়ীরা আগেভাগে খবর পেয়ে যায়। গরীব মানুষ যারা পেটের তাগিদে নামে, তারাই কেবল ধরা খায়। ডলুরা’র সিরাজ মিয়া জানালেন, গ্রামের দক্ষিণ মাথায় চলে বোমা মেশিন।
স্থানীয় একাধিক বালু শ্রমিক জানালেন, বোমা মেশিন চালানোয় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছে।
ডলুরা থেকে কোচগাঁও পর্যন্ত এলাকার একাধিক গ্রামবাসী জানালেন, বিশ^ম্ভরপুর থানার এএসআই শরিফ মিয়ার সঙ্গে বোমা মেশিন চালকদের দহরম মহরম প্রতিদিনই দেখেন তারা। এএস আই শরিফের উপস্থিতিতে বোমা মেশিন চলতে দেখেছেন অনেকে। গ্রামবাসী বললেন, আমাদের নাম লিখলে স্থানীয় প্রভাবশালী বোমা মেশিন ব্যবসায়ীরা চড়াও হবে, এএসআই শরিফও আমাদের হয়রানি করবে।
এএসআই শরিফ বললেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমার কর্তব্য এলাকা ঐ এলাকায় নয়। আমি ওখানে যাইও না। যারা এমন কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে, বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে পুলিশ সোচ্চার।
স্থানীয় লোকজন প্রভাবশালী বোমা চালকদের মধ্যে সিরাজ মিয়া, কাইয়ুম মিয়া, জিয়া মিয়া, জয়নাল মিয়া, আবুল কাশেম, আলকাছ মিয়াসহ অনেকের নাম বলেছেন।
কিন্তু কাইয়ুম মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বললেন, আমার ড্রেজার মেশিন, ট্রলার সবই ছাতকে নিয়ে গেছি। জিয়া মিয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় কথা বলা যায় নি। জয়নাল মিয়া ফোন রিসিভ করেন নি। ডলুরার সিরাজ মিয়া জানালেন, তার ড্রেজার মেশিন নাই, বিজিবি ক্যাম্পের সামনে তার বাড়ি, ওখানে থেকে বোমা মেশিন চালানো যাবে না। তিনি অবশ্য বলেছেন, তিন কিলোমিটার ভাটিতে বোমা মেশিন চলছে। ঘোষগাঁও’এর আবুল কাশেম দাবি করেছেন, তার কোন বোমা মেশিন নেই। যারা চালায় তারা অভাব অনটনে পড়ে চালায় বলে দাবি তার।
বিশ^ম্ভরপুর থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার বললেন, পুলিশ সুপার মহোদয়সহ আমরা সকলেই বোমা মেশিনের বিষয়ে একেবারেই জিরো ট্রলারেন্স। আমি এই থানায় যোগদানের পর প্রায় প্রতিদিনই বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতেও অভিযান চালিয়ে ৮ টি স্টিলবডি নৌকা, ৫ টি বোমা মেশিনসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আমি চেষ্ট করছি অবৈধ বোমা বা ড্রেজার মেশিন যাতে কেউ চালাতে না পারে। বোমা মেশিন চালাতে এ এস আই শরিফের কোন অনৈতিক যুক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেটের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, অবৈধ বোমা বা ড্রেজার মেশিন চালানো যাবে না। কেউ বোমা মেশিন চালিয়েছে প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসনের লোকজন এদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের দিকে একটি ড্রেজার মেশিন এক লাখ ঘনফুটের রয়েলিটি দিয়ে, এক বছর বালু তুলেছে এমন খবর আমাদের জানানো হয়েছে।