‘বোরো ধান ঘরে তুলতে পারলে চালের দাম স্বাভাবিক হবে’

সু.খবর ডেস্ক
প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ ছাড়া বোরো ধান ঘরে তুলতে পারলে চালের দাম স্বাভাবিক ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভার্চ্যুয়ালি বোরো ধান কাটা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে চালের উচ্চমূল্য, বোরো ধান বাজারে এলে চালের দাম কী নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান যদি আমরা ঘরে তুলতে পারি, যদি কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, ইনশাআল্লাহ ধান-চালের দাম ইতোমধ্যে স্থিতিশীল হয়েছে, এটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা এবার উৎপাদন বাড়ানোর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের যা সাধ্য ছিল করেছি। আমরা কোনো ত্রুটি করিনি। আমাদের মাঠের কর্মকর্তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের করার ছিল না। এটুকু আমি বলতে পারি।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটাও কিন্তু ঠিক আমরা ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেই। চালের দাম বাড়লেও যারা একদম গরিব তাদের কিন্তু অতো কষ্ট হয়নি। খাদ্য নিয়ে দেশে কিন্তু কোনো হাহাকার হয়নি। আপনারাও (সাংবাদিকরা) কিন্তু খবর লিখতে পারেননি। উত্তরবঙ্গে মঙ্গা হয়েছে, মানুষ না খেয়ে আছে। দুর্ভিক্ষ হলে কিন্তু বাজারে চাল পাওয়া যায় না। এ রকম কিন্তু হয়নি। জেলা পর্যায়ে ওএমএস দেওয়া হয়েছে। কাজেই ও রকম কষ্ট মানুষের হয়নি। কিছু কষ্ট হয়েছে আমরা সেটা স্বীকার করি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা জানি দেশে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। প্রতিবছর ২২ লাখ মুখ যোগ হচ্ছে। এদের অন্ন আমাদের দিতে হয়। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের খাবার যোগান দিতে হচ্ছে। ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ থেকে কিনেই খাদ্য রোহিঙ্গাদের দেয়, বাইরে থেকে আনা হয় না। এবার আমাদের আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। গত বছর আমরা আলু রিলিফ হিসেবে দিয়েছিলাম। এবার আমরা রোহিঙ্গাদের রেশন হিসেবে আলু দেওয়ার কথা বলেছি। গমও এবার ভালো হয়েছে। ভুট্টার আবাদ একটু কমে আসছে। মানুষ ধানে চলে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ যখন যেটায় দাম পায় সেটায় ঝুঁকে।
বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। এবার বোরোতে দুই কোটি পাঁচ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এ বছর ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে সারাদেশে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশি হয়েছে। এরমধ্যে দুই লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ করা হয়েছে। সেখানে হাইব্রিডের কারণে কমপক্ষে তিন লাখ টন বেশি ধান পাওয়া যাবে।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম