বোরো ধান সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
নিধার্রিত সময়ের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ন্যায্য মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। এমনকি এ সময়ের মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি তাদের সভা পর্যন্ত করতে পারেনি। কৃষকের তালিকা তৈরি হলেও লটারীর মাধ্যমে বাছাই কার্যক্রমও স্থবির হয়ে আছে। ফলে কবে থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে পৃথক দুটি খাদ্যগুদাম রয়েছে। ওই দুটি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৮৪১ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার দুটি খাদ্যগুদামে মোট ৩ হাজার ৯০৮ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে ধর্মপাশা খাদ্যগুদামে ১ হাজার ৪০৮ ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু গেল ২৮ এপ্রিল সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে সারাদেশে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও ধর্মপাশা ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। আর এ জন্য বৈরি আবহাওয়ার কারণে সভা করতে না পারা, ঈদের ছুটি ও কৃষক বাছাইয়ে লটারী না হওয়া, হাওরে পানির কারণে আগাম ফসল কাটা, কৃষকেরা ঠিকমতো ধান শুকাতে না পারায় ধানের আদ্রতার পরিমাণ বেশি হওয়াকে দায়ী করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ।
অন্যান্য বছর ধান বিক্রয়ে আগ্রহী কৃষকেরা তাদের নাম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কৃষি কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর তালিকা চূড়ান্ত করা হতো। কিন্তু এবার উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ধান আবাদের সাথে জড়িতদের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে বলে জানালেও এমন অনেক বড় বড় কৃষক রয়েছেন যারা এ তালিকা তৈরির ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
ধানকুনিয়া হাওরের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, তিনি প্রায় হাজার মণ ধান পেয়েছেন এবার। কিন্তু খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির জন্য কৃষকের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে কি না তা তিনি জানেন না।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন জানান, কৃষকের তালিকা তৈরির ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে তাঁর ইউনিয়নের কাউকে অবগত করা হয়নি।
ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদের জন্য দীর্ঘ ছুটি আর এখনও লটারী না হওয়ার কারণে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারিনি। এবার আগাম কাঁচা—পাকা ধান কাটা হয়েছে এবং কৃষকেরা ধান শুকাতে পারেনি। তাই ধানের আদ্রতা বেশি। সরকারি বিনির্দেশের মধ্যে ধান নিতে হবে।’
সংগ্রহ ও মনিটরিং সভাপতি ধর্মপাশা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির হাসান বলেন, ‘আগামী বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা রয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সপ্তাহে ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’