বড় ভাইয়ের আগে ছোট ভাইয়ের জন্ম

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বয়স্ক ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত বয়স না হলেও মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণউড়া গ্রামের অজিত চন্দ্র সরকার গত চার বছর ধরে বয়স্ক ভাতা ভোগ করে যাচ্ছেন। অজিত চন্দ্র সরকার একই গ্রামের মৃত বিনোদ সরকারের ছেলে ও একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্চিত চন্দ্র সরকারের বড় ভাই।
অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, অজিতের বড় ভাই জ্ঞান চন্দ্র সরকারের জন্ম ১৯৬২ সালে। তিনি বছর তিনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু অজিতের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলক্রমে জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ২৭ জুন ছাপা হয়। আর সেই ভুল সংশোধন না করে কৌশলে তার ছোট ভাই সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্চিত চন্দ্র সরকার চার বছর আগে অজিতের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়। তখন থেকে অজিত বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। অজিতের দাবি তিনি মুক্তিযুদ্ধের বছর পনের আগে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু সেই হিসেব অনুযায়ী গত চার বছর আগে তার বয়স ছিল ৬২ বছর। নিয়ম অনুযায়ী পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তির জন্য ৬৫ বছর বয়স্ক হতে হয়।
অজিত চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমি ভাতা পাওয়ার যোগ্য না। কিন্তু জাতীয় পরিচয় অনুযায়ী ভাতা পাচ্ছি। আমার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য থাকার সময় কার্ড করে দিয়েছে।’
একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘অজিত সরকারের যেখানে ৬০ বছরই হবে না সেখানে বর্তমান বয়স ৭৫ হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘যোগ্য ব্যক্তি রেখে যদি অযোগ্য ব্যক্তিরা বয়স্ক ভাতা পায় তাহলে এর বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। নিশ্চই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’
ধর্মপাশা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান, ‘যদি ওই ব্যক্তি প্রকৃত বয়স গোপন করে বয়স্ক ভাতা ভোগ করে থাকে তাহলে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বলা হবে।’