বয়োজ্যেষ্ঠ ও পক্ষাঘাতগ্রস্তরা শরিক হয়েছিলেন ভোট উৎসবে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে। বয়োজ্যেষ্ট, অসুস্থরাও অন্যের সহায়তায় ভোট কেন্দ্রে এসেছিলেন। চলাফেরায় পরনির্ভরশীলদের প্রতিকেন্দ্রেই ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে। কেউ কাধে ভর দিয়ে, কেউবা পাজকোলা, কেউ এসেছিলেন হুইল চেয়ারে করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে।
সকাল সাড়ে নয় টায় শহরের কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নাতির কাধে ভর করে ভোট দিতে আসেন ১২০ বছর বয়সী করিমুন নেছা।
করিমুননেছা বললেন,‘কতবার গিয়া কইছে তাঁরা (প্রার্থীরা), আর ভোট দিতাম পরমু কি-না, বাঁচলে না আরেকবার ভোটও আইতাম। নাতিরে কইলাম আমারে লইয়া যারে ভাই। হেরে (নাতিরে) ধইরা ধইরা ভোট দিতাম আইছি। আমার নাতি’র (বাপ্পি আহমদ) লায় দোয়া কইরইন, হেঔ আমার লাঠি।
বাপ্পি আহমদ বললেন, দাদি ভোট দেবার জন্য কান্নাকাটি শুরু করেছেন। এজন্য ভোটে নিয়ে আসলাম। ভোট দিতে পারায় তিনিও খুশি, আমি খুশি।
সকাল ১০ টায় উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হুইল চেয়ারে করে ভোট দিতে আসেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ৬৫ বছর বয়সি আমির হোসেন। বললেন, আত্মীয় ছেলেটা ভোটে (কাউন্সিলর) দাঁড়িয়েছে, তারে ভোটটা দিবার লাগি আইছি। যদি আমার ভোটটারলায় ফেইল করে, তে আমার কষ্ট অইবো, ইতার লাগি আইছি।
তেঘরিয়ার ৮০ বছর বয়সি গোলাম মিয়া এসেছেন নাতি রাহীর কাধে ভর করে। বললেন, ভোটটা দিয়া শান্তি পাইছি, মেম্বারও (কাউন্সিলার) দাঁড়াইয়া কতবার গেছে ভোট চাওয়ার লাগি।
মিস্টার বাবুল হিসেবে পরিচিত তেঘরিয়ার সাহেববাড়ি ঘাটের বাবুল মিয়া। নাতির কাধে ভর দিয়ে ভোট দিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। বললেন, কত ভালা যে লাগছে, ভোটটা দিয়া। ভোট চাওয়ার লাগি যারা গেছে, তারারে কইছলাম আমিতো ভোট দিবার লায় যাইতাম পারতাম নায়। ভোট দিয়া খুশি লাগের।
শুধু এই চার জন নয়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রতি কেন্দ্রেই বযোজ্যেষ্ট ও পক্ষাঘাতগ্রস্তরাও ভোট দিতে গেছেন, ভোটের পরিবেশও ছিল উৎসবমূখর।