- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ভন্ড কবিরাজের কাণ্ড, মেয়ের চিকিৎসায় বাবাকে ওষুধ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
রিকশা চালক বাসেদ মিয়া ও গৃহিনী হালিমা আক্তার দম্পতির সাথে কিছুদিন আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক মাজারে পরিচয় হয় কবিরাজের। তারপর ওই দম্পতি নিজেদের অসহায়ত্ব, সাংসারিক ও মেয়ের জন্ডিসের সমস্যার কথা বিনিময় করেন কবিরাজের সাথে। বিনিময় করেন মুঠোফোন নম্বর। গত সোমবার মেয়ের চিকিৎসার জন্য ফোনে ওই কবিরাজকে ডাকা হয়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কবিরাজ হাজির হয় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা গ্রামের পূর্বপাড়ায় বাসেদ মিয়ার বাড়িতে। রাত ১১টার দিকে মেয়ের জন্ডিসের চিকিৎসা শুরু করার আগে বাসেদ মিয়ার ঘুম হয় কিনা জিজ্ঞাস করে কবিরাজ। বাসেদ তখন ঘুম কম হয় বলে কবিরাজকে জানায়। এরপর কবিরাজ বাসেদকে এক প্রকার অসুধ খাইয়ে দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন হয় বাসেদ। তারপর কেটে যায় সারারাত। চিন্তিত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। পরদিন সকালে বাসেদের ঘুম না ভাঙলে তাকে পরিবারের লোকজন স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম তা থানা পুলিশকে অবগত করেন। পরে পুলিশ ওইদিন জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামের ভন্ড কবিরাজকে বাসেদ মিয়ার বসতঘর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জাহাঙ্গীর হোসেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বাসিন্দা।
ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘বাসেদ মিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারিরীক অবস্থা ভালো না। মাঝে মধ্যে চোখ খুলে কিন্তু কোনো কথা বলতে পারেনা। চোখ খুলে মূহুর্তেই ঘুমিয়ে যায়। ডাক্তার জানিয়ছেন ঘুমের অতিরিক্ত অসুধ খাওয়ানোর ফলেই এমনটি হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে কবিরাজ এমনটি করে থাকতে পারে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কবিরাজকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]