ভাঙনের কবলে কালারুকা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম

পুলক রাজ
সুরমার ভাঙনে প্রতিদিনই নদীতে ভেঙে যায় বসতভিটা ও ফসলি জমি। এখন নদীর পানি বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা ও বেড়েছে। দ্রুত নদী ভাঙন না ঠেকালে পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। এরই মধ্যে অনেকের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে তাঁরা ঠাঁই নিয়েছে অন্যের জায়গায়। বলছিলেন, কালারুকা ইউনিয়নের খালপাড় গ্রামের আক্তার হোসেন এসব কথা।
ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। কালারুকা ইউনিয়নের ৩ নং ও ৪ নং ওয়ার্ডের কালারুকা বাজার, খালপাড়, লামাপাড়া, চাঁনপুর, মাধবপুর, শংকরপুর গ্রাম ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা। প্রতিবছরই ভাঙনের কারণে এসব গ্রামের অনেক হাটবাজার, বসতভিটা, কবরস্থানসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকের বসতভিটা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এখনো যাঁদের ঘরবাড়ি নদীর তীরে আছে, তাঁরা আছেন আতঙ্কে। কারণ, যে কোনো সময় তাঁদের ঘর, গাছপালা ও জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এ পরিবারগুলো উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র ভাঙনে দিশেহারা কালারুকা ইউনিয়নের একটি বাজার ও ৪ টি এলাকার মানুষ। গত ১০ বছরে সুরমা নদীতে বিলীন হয়েছে ৪ টি এলাকার শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি, মাঠ, জমি, ফসল। ১০ বছরে ৫ একর জমি পানির তলে। হুমকির মুখে রয়েছে ৩ টি কবরস্থান ও শংকরপুরের জামে মসজিদ। শংকরপুর জামে মসজিদে এখন আর মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পাড়েন না। ভাঙনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন গ্রামের মানুষ। যে কোন সময় মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
শংকরপুরের শফিক মিয়া বলেন, সুরমা নদীর পাড় প্রতিনিয়ত ভাঙছে। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। আমরা গ্রামের মানুষ মিলে এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন খবর নেই।
শংকরপুরের কামরুল আলম ফরহাদ বলেন, আমরা গ্রামবাসি মহাবিপদে আছি। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে কোন সময় কার ঘরবাড়ি পানির তলে মিশে যায় কে জানে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি কবরস্থান মসজিদ ভেঙে যাবে। তিনি দ্রুত নদী ভাঙন প্রিেতরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
বায়েজিদ আলম বলেন, নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে মানুষের জমি গেলো, বাড়িঘর গেলো, এখন কবরস্থান মসজিদের কাছাকাছি ভাঙন এসেছে। এই তিন কবরস্থানে আমাদের স্বজনদের কবর দেওয়া হয়েছে। এখন যদি কবরস্থান না বাঁচানো যায়, এর চেয়ে কষ্টকর কি হতে পারে।
কালারুকা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুছ ছামাদ বলেন, কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বাজার থেকে খালপাড়, লামাপাড়া, চাঁনপুর, মাধবপুর এলাকার মানুষ মহাবিপদের মধ্যে আছে। ৩ নং ও ৪ নং ওয়ার্ড বেশী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনটি কবরস্থান এখন হুমকিতে। এই তিনটি কবরস্থানে হাজার হাজার মানুষকে দাফন করা হয়েছে। আমার মা-বাবাকেও দাফন করা হয়েছে। যেভাবে দ্রুত ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে কবরস্থান যে কোন মুহূর্তে পানির সাথে মিশে যাবে। তখন কে নিবে এই দায়বার, জনপ্রতিনিধিরা তো জয় লাভ করে কোন খবর রাখেন না। শংকরপুর সাবেক জামে মসজিদও নদীর পাড়ে রয়েছে। আমাদের ঘরের পিছনের দিক ফাটল ধরেছে, তাই নতুন করে কাজ করাতে হয়েছে। দ্রুত নদীর পাড়ের কাজ না করালে গ্রামের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি, জায়গা জমি নদীতে মিশে যাচ্ছে।
কালারুকা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মকসুদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনছি নদীর বাঁধ দেবে জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু বাঁধ তো দিবে দূরের কথা মেম্বার চেয়ারম্যান এমপির কোন খবর নেই। অনেক আগে মুহিবুর রহমান মানিক সাহেব আসছিলেন নদী ভাঙন দেখতে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন দ্রুত কাজ শুরু করাবেন।
কালারুকা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবু সাহদাত দুলাল বলেন, ভাঙনে আমাদের গ্রামের যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা করে জমা দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোার্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জানতাম না যে এই গ্রামে এতো মানুষের দুর্ভোগ, শুনে খারাপ লাগছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দুই একদিনের মধ্যে দেখতে যাবো। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত পাঠাবো। যাতে কাজের জন্য বাজেট আসে।