ভাঙন

কুমার সৌরভ

সম্পর্কগুলো ভাঙছে কেমন নির্লিপ্ততায়
বৃক্ষ থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতার মতো।
নদীর সাথে সমুদ্রের
বনের সাথে পাখির
সুরের সাথে গানের
শরীরের সাথে পোশাকের
আমার সাথে তোমার
বিচ্ছেদরেখা আঁকাবাঁকা
সুন্দর-ভয়ংকর শঙ্খচূড়।

ভাঙছে নিবিড়তা ও নৈকট্য
ভাঙছে ভালবাসা ও প্রীতি
ভাঙছে নিঃশ্বাস ও বিশ্বাস
ভাঙছে ভরসা ও আস্থা
ভাঙছে তোমার আমার চোখের রঙ।

তুমি চোখ রাঙাচ্ছো বলে
আমার চোখের অশ্রুধারা
নদী বেয়ে যেতে যেতে
শুকনো এক লক্ষ্যহীন চরে আটকে পড়ে।

তুমি কেমন করে ভুলে গেলে
কতদিন ওই জলপাইর ডালে
ঝুলেছিলাম একসাথে
আমাদের মুঠো ভর্তি হতো
পাকা সবুজ তুলতুলে জলপাইয়ে
ভাগাভাগি কামড়ে মুখযুগল টক হওয়ার পর আমরা লুকোতাম আঁখের বাগানে।
আমাদের সেই জলপাই বাঁধন আজ আর নেই
আছে জিগীষা, নির্মূল করার জন্য এঁকেছো আরেক ঐচ্ছিক অলঙ্ঘ সীমানা।

সেই কবে কোন্ ছেলেবেলায় বলেছিলে
‘এইসব সীমানা তুলে দিবো আমরা’
এরপর কে কোথায় দিগভ্রান্ত নিখোঁজ
চোখাচোখি নাই, সীমানা রয়ে গেলো একই
আজ এসে বলছো-
‘মুছে দাও এই রেখা পুরোটাই আমার’।

ভাঙছি আমি
ভাঙছো তুমি
শুভ্রনীল আকাশের আজ
আঁধার কালো মুখ
তুমিও আগুন ঝরাও
এ কেমন সুখ?
১২.০৪.২০২১