ভাঙা সড়কে ঝুঁকিতে যানবাহন চলছে

আকরাম উদ্দিন
শহরের আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা হতে টুকেরবাজার পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। ভাঙাছোড়া সড়কে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে এই সড়কের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু মেরামত কাজে অনিয়ম হওয়ায় মেরামত চলাকালীন সময়ে সড়ক নষ্ট হতে শুরু হয়। পুনরায় এই সড়কের মেরামত কাজ করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা হতে টুকেরবাজার পর্যন্ত মেরামত কাজ হয়েছিল কয়েক মাস আগে। সড়কের মেরামত কাজে অনিয়ম হয়েছে। কাজের বিবরণ সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়নি মেরামত চলাকালীন সময়ে। ঠিকাদারের খেয়াল খুশিমতো সড়কের কাজ করেছে। ইতোমধ্যে বিটুমিনাস ভেঙে শতাধিক স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। সড়কের সাইটের বিভিন্ন স্থানে পাকা গার্ডওয়ালও ভেঙে পড়েছে। জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সুরঙ্গ পথ তৈরি হয়েছে গার্ডওয়ালের বিভিন্ন স্থানে। বিভিন্ন স্থানে ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়েছে।
পথচারী শুকুর আলী বলেন, সদ্য মেরামতকৃত ভেঙে যাওয়া সড়কে এক দিনের বৃষ্টির পানি চারদিন গর্তে জমে থাকে। মানুষ ও যানবাহন চলাচল খুবই কষ্টকর। ভাঙা সড়কে গাড়ির ঝাঁকুনিতে শরীরে ব্যাথা হয়। রোগীদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছে।
বড়ঘাট এলাকার বাসিন্দা জব্বার মিয়া, আব্দুল হানিফ বলেন, সড়কের কাজ ভাল হয়নি। একদিকে কাজ করেছে, অন্যদিকে ভাঙন শুরু হয়েছে। সড়কের মেরামত কাজে অনিয়ম হয়েছে।
জগাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম, সুলতান আহমদ বলেন, সড়কের কাজ প্রতিবছর মেরামত করার মতো করে ঠিকাদার কাজ করেন। প্রতিবার বরাদ্দ আসে, কাজ করতে গিয়ে অনিয়ম করা হয়।
টুকেরঘাট এলাকার বাসিন্দা শহিদ মিয়া, রাজ্জাক মিয়া বলেন, সড়ক মেরামতে দৃশ্যমান স্থানে কোনো সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়নি। কাজে অনিয়ম করার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএনজি চালক মিন্নত আলী বলেন, গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে, যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই সড়কের দ্রুত মেরামত দরকার।
জগাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, সড়কের মেরামত কাজ দায়সারা ভাবে করা হয়েছে। এই কারণে বৃষ্টির পানি পড়েই অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এই সড়কে বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহরে আসা মানুষজনের ভোগান্তি হয় বেশি। ভাঙা সড়কে গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বেড়েছে। এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানের রোগীরাও যাতায়াত করে থাকেন। সড়কের টেকসই উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্ষার শুরুতেই সড়কের বিটুমিনাস ভেঙে পড়েছে। এই ভাঙন ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামত করে দেয়ার জন্য বলে দেয়া হয়েছে।