ভাতা পাচ্ছে না প্রশিক্ষণার্থীরা

সোহানুর রহমান সোহান
প্রশিক্ষণ ভাতা পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা। তিন মাস মেয়াদি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পর যাতায়াত ভাতা ও লাইসেন্স ফি বাবদ ৯ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মাস পর পেয়েছেন মাত্র ১১শ’ টাকা। এতো কম টাকা মোবাইলে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। টাকা বরাদ্দের অর্থ বছরের সাথে প্রশিক্ষণ মাস মিলছে না বলে টাকা কম পেয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, দেশের হতদরিদ্র বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘দেশ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প’ গ্রহণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের যাতায়াত ভাড়া বাবদ দৈনিক ১০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে লাইসেন্স করার পুরো টাকা দেয়ার কথা। সরকারের এমন উদ্যোগের সুফলও আসতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে। দক্ষ হয়ে বিদেশ গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তবে প্রকল্পের টাকা ঠিকমতো না পাওয়ায় প্রশিক্ষণ নিতে অনাগ্রহী হচ্ছে অনেকে। ধার-দেনা করে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রশিক্ষণের টাকা না পেয়ে তারাও হতাশ হচ্ছেন।
প্রশিক্ষণার্থী সৈয়দ হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ডলুরা বর্ডারের কাছে। আসতে যেতে দৈনিক ২৫০ টাকা খরচ করে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কিন্তু এখন নির্ধারিত ১০০ টাকাই পাচ্ছিনা।
মো মনির হোসেন বলেন, ৩ মাস প্রশিক্ষণ নিতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। একটা আশা নিয়ে আসছিলাম যে প্রশিক্ষণ খরচের কিছু টাকা হলেও সরকার থেকে পাবো। কিন্তু টাকা পেয়েছি মাত্র ১ হাজার টাকা।
নিজাম উদ্দিন বলেন, এখানে যারা আমরা আছি তারা সবাই দরিদ্র পরিবারের। দরিদ্রদের অগ্রাধিকার দিয়েই ভর্তি করা হয়। লাইসেন্সসহ আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন খরচের টাকা আমারা ঋণ করে দিয়েছি। আমাদের বলা হয়েছিল সরকার থেকে বরাদ্দ আসলে সেগুলো ফেরত দেয়া হবে। বরাদ্দ আসার পর মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েছি, ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো।
সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭২ প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা ১২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার বিপরীতে সরকার থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। লাইসেন্স বাবদ ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ১২ লক্ষ টাকার উপরে ঘাটতিতে রয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আব্দুর রব বলেন, বরাদ্দ না থাকলে টাকা কিভাবে দেবো। যেটুকু এসেছে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছি। বরাদ্দ আনার জন্য পিডির সাথে যোগাযোগ করছি। বরাদ্দ এলেই প্রশিক্ষণার্থীরা টাকা পেয়ে যাবে।