- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ভেঙে যাওয়া ডুবন্ত সড়কে ভোগান্তি কৃষকদের

আকরাম উদ্দিন, শনির হাওর থেকে ফিরে
তাহিরপুর উপজেলায় শনির হাওরের জমিতে কৃষি কাজ করার সুবিধার্থে প্রায় ২৫টি ডুবন্ত মাটির সড়ক (জাঙ্গাল) নির্মাণ করা হয়েছিল। এসব ডুবন্ত সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের মেঝেতে পানি নিষ্কাশনের একাধিক বক্স কালভার্টও ভেঙে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা। কৃষি কাজের অগ্রগতিতে এসব সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবি একাধিক কৃষকের।
কৃষকাভ জানান, শনির হাওরে যেসব মাটির ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ হয়েছিল, এসব সড়কে ঠেলাগাড়ি ও ট্রলি ব্যবহার করে ধান গাছের চারা এনে সহজে জমিতে রোপন করা যায়। পাকা ধান তোলে আবার যানবাহন করে নিয়ে আসা যায়। কৃষি কাজ করার সুবিধার্থে নির্মিত এসব ডুবন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের একাধিক বক্স কালভার্টও ভেঙে গেছে। হাওরে হাঁসের ফার্মের মালিকেরাও হাঁসের খাবার এই সড়ক দিয়ে নিয়ে আসেন। জলমহালের মাছ ও উপকরণ এই ডুবন্ত সড়ক দিয়ে অতি সহজে আনা নেয়া যায়। এসব ভেঙে যাওয়া ডুবন্ত সড়লপল জরুরিভিত্তিতে পাকাকরণের দাবি তাঁদের।


তাহিরপুর সদরের বীরনগর থেকে শনির হাওরে ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। উজান তাহিরপুর থেকে রামছনুয়া বিল, মধ্য তাহিরপুর থেকে ডিগাখাইছমা বিল, ভাটি তাহিরপুর থেকে ফ্যালভাঙা বিল, ভাটি তাহিরপুর থেকে সফিকুলের জাঙ্গাল, বলরগাঁও থেকে সুনাতলা বিল পর্যন্ত ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। দুতমা গ্রাম থেকে রামছনুয়া বিল, মধ্য তাহিরপুর থেকে বড় গজারিয়া বিল, পশী জাঙ্গাল থেকে ডিগাখাইছমা বিল। এছাড়াও ছোট ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ হয়েছে আরও প্রায় ১১টি।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক প্রদীপ গাঙ্গুলী বলেন, দীর্ঘদিন আগে কৃষি উন্নয়নে শনির হাওরে ডুবন্ত মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এই সড়ক এখন বন্যার পানিতে গলে যাচ্ছে। সড়কের উন্নয়ন নেই।
লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক মো. শামসুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এই সড়ক নির্মাণ করেছিল। বছর বছর সড়কের সংস্কার না থাকায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে।
একই গ্রামের কৃষক আওলাদ হোসেন বলেন, ডুবন্ত মাটির সড়ক পাকাকরণের দাবি আমাদের।
কৃষক হারুন মিয়া বলেন, শনির হাওরের কৃষি উন্নয়নের সড়কটি পাকাকরণ হলে ভেঙে যেতো না। এই সড়ক থাকায় সহজে কৃষি কাজ করতে পারি। আমাদের দাবি সড়কটি পাকাকরণের।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আসাদ নুর বলেন, শনির হাওরের মাটির ডুবন্ত সড়ক কৃষকদের অতি প্রয়োজনীয় সড়ক। এই সড়কের জরুরিভিত্তিতে পাকাকরণ দরকার। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের বক্স কালভার্টগুলোও মেরামত প্রয়োজন।
শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন বলেন, শনির হাওরে কৃষি কাজের উন্নয়নে যেসব ডুবন্ত মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এসব মাটির সড়ক বছর বছর পানিতে গলে যাচ্ছে। এই জন্য ডুবন্ত সড়কের পাকাকরণ দরকার।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, শনির হাওরে কৃষি উন্নয়নের সুবিধার্থে যে মাটির ডুবন্ত সড়ক রয়েছে, সেই সড়ক কোন অবস্থায় আছে, সেটি সরেজমিনে দেখে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

  • [১]