ভোটার তালিকা হালনাগাদ, শান্তিগঞ্জে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন মাঠ কর্মীরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার (২০ মে) থেকে পুনরায় হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে সারাদেশের ৬৪ জেলার ১৩৯টি উপজেলার ন্যায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায়ও এ কার্যক্রম শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এখন পুরোদমে চলছে হালনাগাদের কাজ। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৭ জন সুপারভাইজারের অধিনে মোট ৭২ জন তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এ কার্যক্রম চলবে ৯ জুন পর্যন্ত।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এবার আগামী তিন বছরের মধ্যে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য (১৮ বছর) হবেন, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সে হিসাবে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম, এই হালনাগাদ কার্যক্রমে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৫ বা তার আগে তাঁদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী বছরের ২ মার্চ প্রকাশ করা হবে।

আর যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৬ বা তার আগে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০২৪ সালের ২ মার্চ এবং যাদের জন্ম ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০২৫ সালের ২ মার্চ।
যাঁদের জন্ম ২০০৫ সালের আগে, কিন্তু বিভিন্ন কারণে ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, তাঁরাও হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার হতে পারবেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে মৃত ভোটারের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এ সময় ভোটার স্থানান্তরের আবেদনও করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ইউটিলিটি (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস) বিলের কপি প্রয়োজন হবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, ২০ মে থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যক্রমের শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৯ জুন পর্যন্ত। মাঠ পর্যায়ে আমাদের মাঠ কর্মীরা কাজ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি আছে। কাজও চলছে পুরোদমে। সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, ভোটার তথ্য সংগ্রহের পর নিবন্ধন কেন্দ্রে ভোটারদের নিবন্ধন করা হবে ধাপে ধাপে। ইউনিয়ন পরিষদে নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করে ভোটারদের ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ গ্রহণ করে ভোটার নিবন্ধন করা হবে। এ সময় মূল তথ্যের প্রিন্ট কপি দেওয়া হবে ভোটারদের।