মফস্বলে টেস্ট ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে হবে

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস নিত্যদিনই নতুন নতুন রেকর্ড করে নিজের ভয়ানক চরিত্র উন্মোচন করে চলেছে। এবার করোনার হটস্পট কেবল ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজিপুরেই আটকা নেই। সারা দেশেই করোনার ভয়াল বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। সিলেট বিভাগ কিংবা সুনামগঞ্জ জেলাও এর বাইরে নয়। করোনার কমিউনিটি স্প্রেডের যে কথা আমরা শুনছিলাম তা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এখন প্রতিদিন দেশে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তকৃত রোগীর শতকরা হার প্রায় ২৩ এ পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ প্রতি চার জনকে পরীক্ষা করলে একজন আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে। বিশিষ্ট অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল আশংকা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ত্রিশ শতাংশই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর আশংকা অমূলক নয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তকৃত রোগীর বর্তমান শতকরা হার তাঁর এই আশংকাকে সমর্থন করে। ভাইরাসটি এখন আমাদের দেশে উর্ধমুখী অবস্থানে আছে। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুসংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। করোনার এই উর্ধমুখী যাত্রা আরও কতদিন বজায় থাকবে তার পূর্বানুমান করা যাচ্ছে না। লকডাইন তথা সাধারণ ছুটি প্রত্যাহৃত হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে ভাইরাসের ভয়ানক বিস্তার দেখা দিবে বলে প্রায় সকল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ একমত।
সুনামগঞ্জে মঙ্গলবার একদিনে ৩৯ জন নতুন শনাক্তকৃত করোনাক্রান্তের রেকর্ড তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলায় শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ২১৩ তে পৌঁছে গেছে। সুনামগঞ্জে টেস্ট খুবই অগ্রতুল। বেশির ভাগ টেস্ট করা হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের কর্মীবৃন্দের। একেবারে গণ পর্যায়ে টেস্টের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস কোন পর্যায়ে আছে তা বুঝা যাচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্যকর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ থেকে বুঝা যায় কমিউনিটিতেও ভাইরাস ছড়িয়েছে।
মফস্বলে টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর সময় এসে গেছে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি ব্যবস্থাপনাকেও করতে হবে সময়োপযোগী। দৈবচয়ন ভিত্তিতে টেস্ট করার দিকে ভাবার সময় এসে গেছে। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও গ্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি রেপিড টেস্টের দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। রেপিড টেস্ট করা শুরু না করলে এই ভাইরাসের গণসংক্রমণের মাত্রা বুঝা কঠিন হয়ে যাবে। গণস্বাস্থ্যের কিট অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অহেতুক সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো সরকারকে বুঝতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতের অননুমেনেয় পরিণতি রোধ করা সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে সিটিগুলো ছাড়াও রয়েছে বিশাল বাংলাদেশ। পুরো দেশ নিয়ে সমান চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে যখন বলা হচ্ছে, এই বৈশ্বিক দুর্যোগে অর্থনেতিক ধস আটকাতে পারে কেবল আমাদের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্রময় কৃষি ব্যবস্থা, তখন কৃষি উৎপাদনের ভিত্তিভূমি বিশাল গ্রাম বাংলাকে অবশ্যই সুস্থ্য রাখতে হবে। আমরা কামনা করি মফস্বলের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।