মহান স্বাধীনতা দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীসহ বাংলাদেশের মানুষকে রক্তিম শুভেচ্ছা জানাই। এই সেই দিন, যখন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল। হাজার বছর ধরে বাঙালির নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা, তার স্ফূরণ ঘটেছিল এই দিনে। আজ আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নাম জানা না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। স্মরণ করি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহকর্মী জাতীয় নেতাদের। আমরা জানি, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের আপামর জনসাধারণের বহু যুগের স্বপ্ন ও সাধনার ফসল হলেও এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার সন্তান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারিয়েছেন জাতির পিতা এবং তার চার সহযোগী। প্রাণ দিয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এমনকি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশেও স্বাধীনতা বিরোধীরা বুক ফুলিয়ে চলেছে। তাদের কারও কারও গাড়িতে উড়েছে লাখো শহীদের রক্তভেজা লাল-সবুজ পতাকা। স্বস্তির বিষয়, বিলম্বে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ধারায়।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, এখন সময় এসেছে স্বাধীনতার সুফল সাধারণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার। ভুলে যাওয়া চলবে না, স্বাধীনতা মানে কেবলই রাজনৈতিক পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত হওয়া নয়; শুধু প্রতীকী ও স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতাও নয়; স্বাধীনতা মানে উন্নত-সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক পরিবেশে শ্রেণি-পেশা-ধর্ম নির্বিশেষে সবার আরও ভালো থাকার অধিকার। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সে জন্যই তখনকার সংগ্রামকে স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী প্রেরণা সেই ভাষণটিও ইউনেস্কো থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এ দিনটি বাংলাদেশের ¯্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরও। এবার তাই উদযাপনেও যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এর সাথে আর একটি নতুন পালক যোগ হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের চুড়ান্ত সুপারিশ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়েছে। একদা তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে যে দেশকে কেউ কেউ কটাক্ষ করত, সেই দেশই এখন বিশ্বের অনেককে পথ দেখাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ থেকে এগিয়ে রয়েছি আমরা।
যে চেতনা নিয়ে একদিন কৃষকের সন্তান অস্ত্র ধারণ করেছিলেন, শ্রমিক কারখানার হাতুড়ি ছেড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙ্কারে অমিত বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, ছাত্রছাত্রীরা ছেড়েছিলেন ক্যাম্পাস, নারী সমাজ সামলেছিল ঘর ও বাইরের চ্যালেঞ্জ এবং বুদ্ধিজীবীরা অসির বিরুদ্ধে মসিকেই সংগ্রামের হাতিয়ার বানিয়েছিলেন- তা এই স্বাধীনতা দিবসের মধ্য দিয়ে আরও শানিত হবে। সমুন্নত থাকবে বাংলাদেশের স্বাধীন শির। স্বাধীনতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক- সমাজের সার্বিক মুক্তি। সবাই মুক্তি পেলে, সবার অধিকার নিশ্চিত হলেই কেবল স্বাধীনতার মর্মবাণী সমুন্নত থাকে।