মাছের উৎপাদন বাড়ছে না আশানুরূপভাবে

আসাদ মনি
মৎস্য উৎপাদনের ভা-ার হিসাবে পরিচিত হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে মাছের উৎপাদন বাড়ছে না আশানুরূপভাবে। সরকারি হিসাবে মাছের উৎপাদন প্রতিবছর বেড়েছে দেখানো হলেও স্থানীয়রা বলেছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে মাছের উৎপাদন আরও অনেক বেশি বেড়ে যাবে। মৎস্য অফিসের দায়িত্বশীলরা অবশ্য দাবি করেছেন, মাছের উৎপাদন বিগত সময়ে ঠিকই বেড়েছে, এই বছর বর্ষা বিলম্বে হওয়ায়, পোনা মাছ কম ছাড়ায় এবং জনবল সংকটের কারণে আগামী অর্থ বছরে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে হাওর, বিল, পুকুর, নদী নিয়ে মাছের উৎপাদনের ক্ষেত্র হচ্ছে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৫ হেক্টর। এরমধ্যে প্রাকৃতিক জলাধারই বেশি। একটু যতœ নিলেই শতকোটি টাকার মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী সুনামগঞ্জ জেলায় গেল ৫ বছরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে হাওর, বিল, নদী ও পুকুর মিলে মাছের উৎপাদন ছিল ৯১ হাজার সাত শ’ দুই টন, ২০১৬- ১৭ অর্থবছরে ৯৪ হাজার দুইশ’ ৭৭ টন, ২০১৭-১৮ বছরে ৯৬ হাজার ৯ শ’ ৯৬ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯৮ হাজার ২শ’ ৩০ টন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ লাখ দুই হাজার টন এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে এক লাখ তিন হাজার ৫৮০ টন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য উঠে আসে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজন কুমার সিংহ জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিদের দাবি গত ৩ বছরে হাওর থেকে মাছের উৎপাদন কমে এসেছে।
দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুুর আলম চৌধুরী বললেন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, হাওরের ছোট ছোট খাল- বিলে ফসল রক্ষা বাঁধের মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে বিল শুকিয়ে মাছ ধরা এবং ইজারাদারের শর্তমতে জলাশয় খনন না করায় হাওরে মাছের উৎপাদন কমছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বললেন, হাওরে মাছের উৎপাদন কমছে। কারণ মাছের কোনো অভয়ারণ্য নেই। ইজারাদারেরা বিল শুকিয়ে মাছ ধরেন। কাদার নিচ থেকেও মাছ উঠায় ইজারাদারের লোকজন। বর্ষা মৌসুমে কারেন্ট ও কুনা জাল দিয়ে মাছ শিকারও মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
এই জনপ্রতিনিধি মনে করেন, মাছের প্রজননের সময় হাওর এলাকায় মাছ শিকার নিষিদ্ধ করতে হবে। এসময় জেলেদের তালিকা করে তাদের সহায়তা প্রদান করতে হবে। পরে তাদের মাছ ধরার সুযোগ দিতে হবে। এতে হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
জেলা মৎস্য অফিসার সুনীল মন্ডল মাছের উৎপাদন কমেনি দাবি করে বললেন, জনবল সংকট, বরাদ্দের অপ্রতুলতাসহ নানা সমস্যার মধ্যেও আন্তরিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাজ করছি আমরা। মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতি উপজেলায় মাসে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন, আমরা পাচ্ছি বছরে ১০ হাজার টাকা, প্রাকৃতিক প্রজনন বাড়াতে পোনা মাছ ছাড়তে বরাদ্দ প্রয়োজন কমপক্ষে এককোটি টাকা, সেখানে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, জেলাব্যাপী মৎস্য অফিসগুলোয় ৯৬ টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ২৮ জন, মৎস্য অধিদপ্তরের কোন পরিবহন নেই বললেই চলে। জেলা মৎস্য অফিসের ভাঙাচোরা গাড়ি নিয়ে শনিবার হাওরে পোনা ছাড়তে গিয়ে ফেরার আসার সময় গাড়ি বিকল হওয়ায় অন্য গাড়িতে আসতে হয়েছে। তিনি মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য অভয়াশ্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বললেন।