মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
বন্যার পানি কমলেও আশ্রয় কেন্দ্র থেকে এখনও বাড়ি ফিরতে পারেন নি তেরাব আলী, আফাজ উদ্দিন এবং আসকর আলীরা। ভয়াবহ বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। ঘরের মেঝেতে কাদা। দেয়াল ও ঘরের চাল লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বানের তোড়ে ভেসে গেছে সহায় সম্বল। জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছেন মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পানি কমছে অথচ ঘরে যাবার কোনো ব্যবস্থা নেই তাদের।
তেরাব আলী মল্লিকপুর এলাকায় টিনসেড ঘরে বসবাস করতেন। স্ত্রী সস্তান সহ ৭ সদস্যের সংসার তার। সিএনজি চালিয়ে পরিবারের ভরনপোষনের খরচ মেটান। মহামারি বন্যার এই বিশ দিন কাজ নেই তার। সহায়তাও তেমন পান নি।
তেরাব আলী জানালেন, সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরণ করলেও আমাদের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে কারোরই চোখ পড়েনি। ফলে সরকারি – বেসরকারি সহায়তা থেকেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আমার জায়গা জমি নাই। এখন একমাত্র ঘরটা বন্যায় ভেঙ্গে গেল। পানি কমেছে তবে ঘরে ফিরতে পারছিনা। হাতে কিছুই নেই। সরকারি ভাবে টিন, নগদ টাকা পেলে খুবই উপকৃত হতাম।
আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যার আঠারো দিনের মধ্যে একবার খিচুড়ি খাওয়ানো হয়েছে। একবার চিড়া মুড়ি পেয়েছেন। এছাড়াও একদিন পৌরসভার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ দিন তারা অনাহারে অর্ধাহারে কাটিয়েছেন।

সরজমিন : মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র


মল্লিকপুর এলাকায় বিল পাড়ে ছোট্ট একটি টিন সেড ঘরে বসবাস করতেন আসকর আলী। দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন এতোদিন। গরু ছাগল, হাঁস মোরগ পালন করতেন। বেশ ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু বন্যায় তার ঘরের আসবাবপত্র, হাঁস-মোরগ সব ভেসে গেছে। জীবন বাঁচাতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ঠাঁই নেন।
আসকর আলী বললেন, যখন দেখলাম পানি বেড়ে গিয়ে কাট উপচে ঘরের চাল ছুঁই ছুঁই করছে, তখন চালের ওপর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে উঠি। একদিকে বৃষ্টি, অন্য দিকে তুফান, বজ্রপাত! আমরা আমাদের গরুর লেজে ধরে, জারমুনির স্তুপে ধরে তীরে উঠি। তারপর পাশের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিই। এখন পানি কমছে, কিন্তু ঘরে যেতে পারছিনা। কারণ ঘর মেরামত করতে হবে। হাতে কিছুই নেই।
একই এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন। তিনি একজন প্যারালাইসিস রোগী। তার তিন ছেলে দিন মজুর। কখনও কাজ পায়, কখনও পায়না। বন্যার কারণে তিন ছেলের কাজ নেই। নিজের মাথা গোজার ঠাঁই ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
আফাজ উদ্দিন বললেন, আমি অসুস্থ্য, প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। মাঝে মধ্যে একটু সুস্থতা অনুভব করলেই আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল, লোহা, রড সহ ভাঙ্গারি জাতীয় জিনিস সংগ্রহ করে বিক্রি করি। আমার একমাত্র থাকার ঘরটি বন্যায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।