মান্নান-ডন ও পাশার ছায়া লড়াই আজ

বিশেষ প্রতিনিধি
জগন্নাথপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশার ছায়া লড়াই আজ (বুধবার)। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলা পরিষদের ভোট আজ।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেনকে (নৌকা) স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তাকে (আনরস) ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিতে হয়েছে। একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন মুক্তাও। আকমল স্থানীয় রাজনীতিতে এমএ মান্নানের এবং মুক্তা আজিজুস সামাদ ডনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ মান্নান ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বাইরে ছিলেন। এলাকায় প্রচার আছে মন্ত্রী মান্নান বিদেশে থেকেও দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে আকমলের পক্ষে কাজ করার জন্য ফোনে অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর শেষ দুইদিনে আকমলের অবস্থান ভালো হয়েছে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেনও।
অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তাও দাবি করেছেন, শেষের দুই দিনে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
দলীয় মনোনীত ও স্বতন্ত্র এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এমএ মান্নানের অনুসারী দলের নেতারা প্রকাশ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেনের পক্ষে। অন্যদিকে আজিজুস সামাদ ডনের অনুসারী দলের দায়িত্বশীল নেতারা ছিলেন নিরব। ডন অনুসারী হিসাবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা হারুন রাশিদ ও মিন্টু রঞ্জন ধরসহ এই পক্ষের অনেক নেতাকেই নৌকার পক্ষে প্রচারণায় দেখা যায় নি।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন চারজন। একজনকে প্রচারণা ও ভোটের মাঠে কম দেখা গেছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল) স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন। জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (খেজুর গাছ) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস চৌধুরী লিটন (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীর পক্ষে গত প্রায় এক সপ্তাহ মাঠে ছিলেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাড. মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী। তিনি সৈয়দ তালহা আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টও হয়েছেন।
মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী বললেন, জগন্নাথপুরের নির্বাচনকে দলের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্যই আমি প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের প্রার্থীর জয় আশা করছি।
একাধিকবার ফোন দিলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন ফোন রিসিভ না করায় মঙ্গলবার তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি। এই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু’র প্রথম দিকে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, আমি কোথাও দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করে কথা বলিনি। বরঞ্চ উপজেলার অত্যন্ত ৫০ জনকে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য ম্যাসেজ পাঠিয়েছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা এমএ মান্নান বললেন, নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমার পক্ষে জগন্নাথপুরে ভোট চাইতে যাওয়া সম্ভব হয় নি। আমাকে দলের নেতা কর্মী যারা ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছেন, আমি বলেছি তারা যেন উন্নয়নের পক্ষে থাকেন। নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায়ই জগন্নাথপুরবাসী রানীগঞ্জে কুশিয়ারার উপর সেতু পেয়েছেন। রাজধানীর সঙ্গে এই উপজেলার দূরত্ব কমেছে। আরও অনেক উন্নয়ন পাইপ লাইনে আছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বললেন, প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ৮৯ টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩২৩ জন এবং নারী ভোটার ৯৩ হাজার ৭১৬ জন। নির্বাচনে স্থায়ী বুথ রয়েছে ৫২৯টি ও অস্থায়ী ৭০টি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শুভাশিষ ধর জানালেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম সার্বক্ষণিক ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাদা পোষাকে জেলা বিশেষ শাখার সদস্য ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণে সার্বক্ষণিক জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত থাকবেন।