মায়ের লাশ ঘরে রেখে পরীক্ষা দিলো জুমা আক্তার

জগন্নাথপুর অফিস
মায়ের লাশ ঘরে রেখে কেঁদে কেঁদে পরীক্ষায় কেন্দ্রে এসে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে জুমা আক্তার। রবিবার সকালে এই শিক্ষার্থীর মা পারভিন বেগম (৫০) মারা যান। জুমা এবার জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার বাড়ি উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের চক-কাচিমপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, মায়ের লাশ ঘরে রেখে মেয়েটি সকালে হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আমি এ দৃশ্য দেখে শোকাভিভুত হয়ে তার কাছে গিয়ে সান্ত¦না দিয়ে মনকে শক্ত করে পরীক্ষায় দিতে বলেছি।
তিনি জানান, রবিবার ভোর রাতে জুমার মা আকস্মিকভাবে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন।
এদিকে মায়ের মৃত্যুতে জুমা আক্তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে সকাল থেকেই কাঁদছিল। তাকে সান্ত¦না দিয়ে সহপাঠি ও স্বজনরা পরীক্ষায় দিতে উৎসাহিত করেন। রবিবার সে উপজেলার সদরের জগন্নাথপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।
এই পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক গোবিন্দ রায় জানান, বেলা ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেয় জুমা আক্তার। তার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ আমরা শিক্ষকরা জানতে পেরে তাকে মানসিক সাহস যোগাতে সহযোগিতা করেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে শোকাহত ওই শিক্ষার্থীর পাশে থেকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছি।