মা হলো মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, বাবা কে?

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাম পরিচয়হীন এই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তানের মা হলেও বাবা কে তা জানা যায়নি। তবে পাগলীর পুত্র সন্তানটির দত্তক নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন বিপ্লব জানান, পাগলিটি সন্তান প্রসবের পর পুত্র সন্তানটিকে বুকের দুধ দিতে ও তার পাশে রাখতে চায় না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান জানান, পাগলির পুত্র সন্তানটিকে দত্তক নেয়ার জন্য তার আপন ছোট বোন রোজিনা বেগম ইউএইচএফপিও এবং ইউএনও এর নিকট অনুরোধ করেছে। মিজানুর রহমান আরো জানান, ইউএইচএফপিও এবং ইউএনও স্যার তাদের বোনকে বলেছেন, আপাতত শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে যতœ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ অবস্থায় তার বোন রোজিনা বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে পাগলির পুত্র সন্তানটিকে সেবাযতœ করছেন।
জানা যায়, পাগলিকে কিছুতেই হাসপাতালের ওয়ার্ডে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার বিকেল ৩টায় শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে পাগলি গেইটের বাইরে চলে আসে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন তাকে নানান কথা বুঝিয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। বর্তমানে পাগলিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের পাচমিনা বেগম (৪৫) বলেন, সোমবার সকাল বেলা বাজারে এসে দেখি লামাবাজারে যাওয়ার রাস্তায় পাগলিটা দু’হাত পেঠে ধরে চিৎকার করছে। এ অবস্থায় তিনি একটি রিক্সা করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটি পুত্র সন্তান প্রসব হয়।
তাহিরপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আবিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩ মাস ধরে পাগলিটি তাহিরপুর বাজারে এসেছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, পাগলিকে উচ্ছৃঙ্খলতা রোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। সন্তানটিকে দত্তক নেয়ার জন্য রোজিনা নামে এক মহিলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাযতœ করে যাচ্ছে।