মিয়ারচর-শক্তিয়ারখলা সড়ক/ বন্যায় ভেঙে পড়া কালভার্টটি দ্রুত মেরামত করা হোক

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর-শক্তিয়ারখলা সড়কটি মানুষের চলাচল বিবেচনায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাটসহ টেকেরঘাট, বড়ছড়া প্রভৃতি এলাকার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কয়লা ও বালু-পাথর ব্যবসার কারণে এই সড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কয়েক হাজার লোক ব্যবসায়িক ও অন্যান্য কারণে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারিভাবে সড়কটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বলেই অনৃুমিত হয়। এই সড়কের বাঘপুড়া এলাকায় এলজিইডি’র নির্মিত একটি কালভার্ট ছিল যেটি গত মে মাসে বন্যায় ভেঙে যায়। কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকসা ও অন্যান্য যানবাহনকে চরম অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। কালভার্টটি বন্যায় ভেঙে পড়ার পর ইতোমধ্যে ৫ মাস অতিক্রান্ত হলেও এটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙা কালভার্টের জায়গায় জাদুকাটা নদীর ইজারাদারের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে দুইটি কাঠের পাটাতন লাগানো হয়েছে। এই পাটাতনের উপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো পারাপার করে থাকে। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশংকা প্রকাশ করছেন এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা। অগতির গতি হিসাবে নির্মিত কাঠের পাটাতনটি ব্যবসার আরেকটি উপলক্ষ হয়েছে কিনা সেই তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে বিভিন্ন সড়কে যেভাবে বাঁশ, চাটাই ফেলে টাকা আদায়ের অবস্থা দেখি তাতে এখানে যদি এরকম হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাই এই কালভার্টের জায়গায় দুইটি পাটাতন ফেলে কোনো ব্যবসা করা না হলে সেটি একটি সুখবর হিসাবেই বিবেচিত হবে।
বিশ্বম্ভরপুর এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী বলেছেন, কালভার্ট মেরামতের প্রস্তাবনা তারা পাঠিয়েছেন কিন্তু এখনও অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। উন্নয়ন কাজের বিড়ম্বনার আরেক নাম হলো এই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষীয় অনুমোদনের প্রলম্বিত পদ্ধতিটি। জরুরি প্রয়োজন যেখানে রয়েছে সেখানে অনুমোদনের পদ্ধতি সহজ না করা কিংবা জরুরি বিবেচনা করার কোনো মানদ- না থাকার কারণে এই সময়ক্ষেপণ ঘটে থাকে বলে আমরা মনে করি। একটি সড়কের অংশবিশেষ যেকোনো সময় জরুরি মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। এই জরুরি প্রয়োজন মেটানোর তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ছোট্ট একটি কাজের জন্য সড়কের দীর্ঘকালীন ভগ্নদশা দেখি আমরা অনেক জায়গায়। আবার সময়মত ছোট্ট মেরামতটি না করার কারণে পরে মেরামতের জায়গাটির ক্ষতির পরিমাণ বহু বেড়ে যায়। তখন খরচের পরিমাণ এবং দুর্ভোগও বাড়ে। তাই জরুরি কাজের জন্য জরুরি ব্যবস্থা থাকা উচিৎ বলে আমরা মনে করি।
মিয়ারচর-শক্তিয়ারখলা রাস্তার গুরুত্ব আগেই আলোচিত হয়েছে। এই রাস্তার আরও বহু উন্নয়ন করার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত জাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা এবং নদীর উভয় পাশের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন করা দরকার। তাহলে এই সড়ক দিয়ে কয়লা, চুনাপাথর, বালু-পাথর ব্যবসাসহ পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধা বাড়বে। সীমান্ত এলাকার ব্যবসা ও উন্নয়ন কাজে গতি আসবে। হয়তো একসময় এসব কাজ হবে। বিন্নাকুলি এলাকায় যে বৃহৎ সেতু নির্মিত হচ্ছে তার অধিকতর সুফল পেতে হলেও এই সড়কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। যোগাযোগ সুবিধা ছাড়া এখন কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকা- গতি পায় না। ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক কর্মকা-কে স্থবির করে ফেলে। তাই সবসময় ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এই বিবেচনা থেকে মিয়ারচর-শক্তিয়ারখলা সড়কের বন্যায় ভেঙে পড়া কালভার্টটি অবিলম্বে মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমরা আশা করি।