মৃত্যুদূতের সাথে লড়াই করা ডাক্তাররা কেন নিভৃতে কাঁদবেন?

হাসান হামিদ
মিশেল সলোমন একজন ফরাসি চিকিৎসক, ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং একাধারে কবিও। ‘কেস ক্য লা পোয়েজি’ নামের একটি কবিতায় তিনি বলেছেন,
‘‘আমি শব্দগুলোকে বেছে নিই, ব্যবহৃত শব্দগুলো,
যে শব্দগুলো এখন অবাঞ্ছিত,
আমি তাদের সংগ্রহ করি, ঝেড়ে পুঁছে সাফ করি,
হৃদয়ের নিখুঁত জ্যামিতির নিয়মে আমি তাদের সঠিক পারস্পর্যে সাজাই’’।
ডাক্তার হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আমাদের সকল অসুখ ঝেড়ে পুঁছে সাফ করার জন্য তার নিজের সুখকে বিসর্জন দেন। ছোটবেলায় ইংরেজি শেখাতে গিয়ে আমাদের ট্রান্সলেশন শেখানো হয়, ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল! তখন থেকেই মাথার ভেতর অনেকেরই ঢুকে যায়, ডাক্তার আসতে গাফিলতি করেছেন। ইংরেজি শেখাতে এই বাক্যটি কি অপরিহার্য ছিল? অথচ সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, ডাক্তাররা এদেশে এখন যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো! আমার মনে হয়, আমাদের দেশের ডাক্তারদের নামে যেসব অভিযোগ করা হয় তার বেশিরভাগ দায়ভার তাদের ওপর বর্তায় না। তারপরও আমরা বুঝে না বুঝে ডাক্তারদের গালি দিই, আজকাল তো পিটিয়ে মেরেও ফেলছি। অথচ দেশ স্বাধীন হবার পর পিজি হাসপাতালে প্রথম রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী বলেছিলেন আমরা হয়তো তা আর মনে রাখি না। সেদিন উপস্থিত সকল ডাক্তারকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রথমেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আপনারা শিক্ষিত, আপনারা এ দেশের মানুষ, আপনারা জানেন দেশের অবস্থা কী। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন স্তরের লোক যেমন জীবন দিয়েছে, ডাক্তাররাও তেমনি দিয়েছে। এ পর্যন্ত যে নাম আমরা পেয়েছি, তাতে দেখা যায় পঞ্চাশ জন ডাক্তারকে শহিদ হতে হয়েছে। পঞ্চাশ জন ডাক্তার তৈরি করতে কী লাগে তা আপনারা জানেন। দুনিয়ার ইতিহাসে দেখা যায়, এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও ডাক্তারদের হত্যা করা হয় না। দুই পক্ষে যখন যুদ্ধ হয়, দুই দেশে যখন যুদ্ধ হয় এতে ডাক্তাররা যুদ্ধবন্দী হয়ে পড়লে তাদের হত্যা করা হয় না, এমনকি খারাপ ব্যবহারও করা হয় না। কিন্তু পাকিস্তানি নরপশুরা এতবড় পশু যে, তারা আমার ডাক্তারদের ধরে নিয়ে হত্যা করেছে।’
বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে দেখতেন, তার স্বাধীন সোনার বাংলায় এখন ডাক্তারদের কীভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গত ১৫ জুন রাতে খুলনার গল্লামারী এলাকার রাইসা ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুর রকীব খানের ওপর এক রোগীর স্বজনরা হামলা চালায়। পরদিন সন্ধ্যায় খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কেন একজন ডাক্তারকে এভাবে মেরে ফেলার সাহস পেল এরা? সহজ উত্তর। এরা জানে, ডাক্তারদের মারলে বা গালি-গালাজ করলে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা এদেশে কম। ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী কার্যকর আইন দরকার দেশে। আর কাজের জায়গাটি স্বস্তি আর আস্থার না হলে, কর্মীর কাছে থেকে খুব ভালো কাজ আশা করা অন্যায়।
কয়েক দিন আগে আমার এক পরিচিত তরুণী ডাক্তার আমাকে খুব কষ্ট নিয়ে বললেন তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা। তিনি ঢাকা শহরের যে বাসায় বর্তমানে থাকেন, সেই বাসার মালিক আকারে ইঙ্গিতে কিছুদিন ধরে বুঝাতে চাইছেন ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মালিককে চাপ দিয়েছেন, তিনি যেন এখানে থাকা ডাক্তারকে বাসা ছাড়তে বলেন। তার অপরাধ কী? অপরাধ গুরুতরই, তিনি নিয়মিত হাসপাতালে যান। অথচ হাসপাতালে তিনি বিনোদন নিতে যান না, যান ওই বাড়ির মালিক আর বাসিন্দাদের মতোই মানুষদের সুস্থ করতে। আমার এক ডাক্তার বন্ধু বলেছেন, হাসপাতালে ডিউটি করা মানুষগুলো এখন অনেকের কাছে ভাইরাসের সমতুল্য। তিনি বাসার লিফটে উঠলে সেই লিফটে আর কেউ উঠে না। অথচ ডাক্তাররা আপনাকে আমাকে বাঁচাতেই কিন্তু তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে যান। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত মানুষগুলোর মতো সমস্ত রাত অন্যকে সুখ দিতে, অন্যের শ্বাসকষ্ট আর বুক ব্যথা কমাতে কে জেগে থাকেন আর? আপনি কিংবা আমি আমাদের সারা জীবনে অন্যকে সুখ দিতে কয়টা রাত কাটিয়েছি না ঘুমিয়ে? আঙুলের কড়ায় গুণে হিসাব করুন। তারপর ডাক্তারদের গালি দিন। ডা. আব্দুর রকীব খানকে পিটিয়ে মারার পর এ জাতি কি ক্ষমা চাইবে সকল ডাক্তারদের কাছে? কিন্তু চাওয়া উচিত। তাতে ডাক্তাররা অন্তত বুঝবেন, আমরা সবাই তাদের পাশে আছি। তারা সাহস পাবেন। তাদের সেই সাহস আমাদের আগামীর সুখ টিকিয়ে রাখতে বড় প্রয়োজন।
কয়েকদিন আগে আমাদের এক তরুণ চিকিৎসক তার রোগী বাঁচাতে চেষ্টা করেও যখন পারেননি, অনেক চেষ্টার পর যখন রোগী মারা গেলেন, তিনি তখন হতাশ হয়ে ফটকের সিঁড়িতে হাত-পা ছেড়ে বসে পড়েন রোগীর মৃতদেহের পাশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি দেখে আমি রীতিমতো কেঁপে উঠেছি। তরুণ সেই ডাক্তারের নাম নিজাম উদ্দিন, যিনি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দিচ্ছেন। আমি জানি এবং বিশ্বাস করি, এদেশের বেশিরভাগ ডাক্তারই এই নিজাম উদ্দিন সাহেবের মতোই।
আমাদের সমাজে একদল আছেন যারা ডাক্তারদের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার না করে অন্ন গ্রহণ করেন না। তাদেরকে বলবো, ঢাকা মেডিকেলে একদিন যান। সেখানকার পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসুন। তাহলে বুঝবেন, কী অপরিসীম সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমাদের ডাক্তারদের কেমন আন্তরিক প্রচেষ্টা রোগীদের সেবা দিতে। জেনে রাখুন, একজন ডাক্তার ইচ্ছাকৃতভাবে কখনোই কোন রোগীকে মেরে ফেলেন না। তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেন রোগীকে সুস্থ করতে। আসলে ডাক্তারদের সাথে রোগীদের সম্পর্ক শুধু আমাদের দেশে নয়, অন্য অনেক দেশে অতি সংবেদনশীল ও নাজুক। কিন্তু কেন? সত্যিকার অর্থে ডাক্তারদের ওপর মানুষের নির্ভরতা এত বেশি যে অনেক সময় বলা হয় ডক্টর ইজ নেক্সট টু গড। আর নির্ভরতা যেখানে বেশি, আস্থার সংকটও সেখানে মাঝেমধ্যে তীব্র হয়ে ওঠে। অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত সুবিধার এই দেশে তা একটু বেশিই।
জামা ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কী কী কারণে ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এক. অনুচিত অবস্থায় রোগী রেখে দেওয়া (৩২ শতাংশ), দুই. রোগী ও তার স্বজনদের মতামতকে কম মূল্য দেওয়া (২৯ শতাংশ), তিন. রোগীর অবস্থার তথ্য সরবরাহ ভালোভাবে না করা (২৬ শতাংশ) ও চার. রোগী ও তার স্বজনদের মনোগত অবস্থান ও প্রেক্ষিত বুঝতে না পারা (১৩ শতাংশ)। এককথায় জনগণের কিছু ‘ধারণাগত’ বিশ্বাসের কারণে এই অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের জন্ম হয়। আমি মনে করি, একই কার্যকারণ আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর ধারণাগুলো যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সত্য নয়, তা আমরা বুঝতে চাই না।
আমাদের দেশের হাসপাতালে অত্যধিক রোগীর চাপ। ডাক্তারের সংখ্যা কম। ফলে চাইলেও অনেক সময় দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের দেখতে পারেন না ডাক্তাররা। তারা মনোযোগ দেন গুরুতর অসুস্থদের প্রতি। আর এদেশের হাসপাতালে সব ধরনের ওষুধ কিংবা বেড না পাওয়া, খাবারের মান ভালো না হওয়া, বাথরুমসহ সব নোংরা, আয়া-সুইপার-দারোয়ান-ওয়ার্ডবয়দের দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি, হয়রানি এসব রয়েছে। কিন্তু এসবের কোনোটির দায়ভারই ডাক্তারদের নয়। এগুলো পুরোপুরি প্রশাসনের দায়িত্ব, যা জনগণ বুঝতে পারে না। তারা জানে না যে, চিকিৎসা দেয়া আর স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা পরিচালনা করা এক জিনিস না। এ জন্য পৃথক বিদ্যা পর্যন্ত আছে। মেডিকেল এন্থ্রপলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আমাদের দেশেরই অনেকে আছেন। কিন্তু তাদেরকে কাজে লাগানোর কোন উদ্যোগ নেই। বিসিএস-এ পাবলিক হেলথ প্রফেশনালদের জন্যও কোন পদ নেই। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আর দুটি অভিযোগ করা হয় প্রায়ই। সেগুলো হলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার চার্জ বেশি এবং একেক জায়গায় একেক রিপোর্ট। অনেকেই জানে না এদেশের বেশির ভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মালিক ডাক্তার নন, ব্যবসায়ী। আর এসব তদারকির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ সেল আছে। সবাইকে বুঝতে হবে, এগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা। মোটেও ডাক্তারদের গাফিলতি কিংবা অবহেলা নয়। আদতে ডাক্তারদের এসবে কোনো হাত নেই।
আমার মনে হয়, আমাদের দেশের ডাক্তাররা পৃথিবীর যে কোনো দেশের ডাক্তারদের চেয়ে মানবিক। দুই একজন অন্য রকম থাকতে পারেন, সেটা সব পেশাতেই আছে। খবরে দেখলাম, হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা ডাক্তারদের পরিবারকে ১০ মিলিয়ন সাম (প্রায় এক কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিরগিজিস্তান সরকার। আমাদের সরকারও কিছু সুবিধা ঘোষনা করেছে, কিন্তু তা অপ্রতুল। চিকিৎসকদের নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। যদিও এদেশের মানবিক ডাক্তাররা আর্থিক প্রণোদনার চেয়ে সংক্রমণ-প্রতিরোধী জিনিস চেয়েছেন, অথচ যা তাদের এমনি ঠিকমতো সরবরাহ করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল।
কয়েকদিন আগে আমাদের দেশে করা এক গবেষণা বলছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্য-কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে তীব্র মানসিক চাপে রয়েছেন। আর্থিক প্রণোদনার বদলে তারা চান উপযুক্ত পিপিই অর্থাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণ-প্রতিরোধী পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম। গবেষণা বা সমীক্ষাটি যৌথভাবে করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ। আমরা খবরের কাগজে পড়েছি, করোনা মহামারিতে চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে শুরু থেকেই অনেক অভিযোগ উচ্চারিত হয়েছে। সুরক্ষার জন্য যেসব পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে তা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি দূর করার উপযোগী নয়। এইসব নিম্নমানের পিপিই কেনা হয়েছে এক লাখের বেশি এবং সেগুলো ইতিমধ্যে ৬৩ জেলায় পাঠানো হয়েছে। ভয়ানক বিষয় হলো পিপিইগুলোর গুণমান যাচাই না করেই চিকিৎসকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

পত্রিকার খবরে আমরা জেনেছি, দেশে এখন পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সংক্রমিত হয়েছেন অন্তত এগারো শ’র বেশি চিকিৎসক। আক্রান্ত নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী মিলিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে তিন হাজার জন। এ অবস্থার প্রধান কারণ নিম্নমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম। মানসম্পন্ন সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ না করে দায়িত্ব পালন করতে যারা বলেছেন, তারা কতটা অন্যায় করেছেন নিজের বিবেককে একবার জিজ্ঞেস করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।
আসলে পরিশ্রম আর জীবন-মৃত্যু সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করা এই ডাক্তারি পেশার সাথে আর কোনো পেশার তুলনা চলে না। আর ডাক্তারদের ছুটি এক অর্থে নাই বললেই চলে। সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন ছুটি, তাও জরুরি অবস্থায় সে ছুটিও বাতিল করা হয়। চব্বিশ ঘণ্টাই কোনো না কোনো ডাক্তার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই তারা পালাক্রমে নাইট ডিউটি করেন। অথচ অন্য যে কোন সরকারি চাকুরের চেয়ে ডাক্তাররা কম সুবিধা ভোগ করে। এরপরও তারা বেতন বাড়ানো অথবা সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য আন্দোলন করেন না। আন্দোলন করেন যখন তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন, তাও খুব কম।
আমাদের বুঝতে হবে, ঈশ্বর কাউকে ডাক্তার বানিয়ে পাঠাননি। মানুষদের মধ্যেই কেউ কেউ ডাক্তার হয়। তাই মানুষ হিসেবে তার দোষ-গুণ থাকবেই। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর সমস্ত পেশার মধ্যে শ্রেষ্ঠ এই পেশা, আর সেরা এই পেশার মানুষগুলো৷ একজন ডাক্তার প্রতিদিন বাসায় ফেরেন অনেকগুলো মুখে হাসি ফুটিয়ে। দিনভর অন্যকে সুখ দিতে, অন্যের অস্বস্তি আর জ্বালা কমাতে, অন্যকে বাঁচাতে নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকেন তারা। সারা জীবনে একজন ডাক্তার লাখ লাখ মানুষের মুখে হাসি ফুটান। আর যখনই ভুল কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পান থেকে চুন খসে, তখন সব দোষ গিয়ে পড়ে ডাক্তারদের ওপর। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, যে অভিযোগ করতে পারে না, দিনশেষে সেই আসামী হয়। ডাক্তারদের নখের যোগ্য মানবতাও জীবনে যে চর্চা করেনি, সেও ডাক্তারদের মানবিক হতে উপদেশ দিতে আসে, গালি দেয়। ডাক্তারদের কিছু বলার আগে ভাবুন, একজন ডাক্তার শুধু সেবক নন, তিনি একজন মানুষও। একজন ডাক্তার পরিবারের মানুষদের সময় দিতে পারে না, কারণ জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহুর্তগুলো সে আপনার বৃদ্ধ বাবা বা অসুস্থ মাকে সুখ দিতে কাটিয়ে দেয়। আসুন, ডাক্তারদের এসব ত্যাগ কিছুটা হলেও মনে রাখি। আমরা মানুষ হই, মানবিক হই সবার প্রতি।
লেখক- তরুণ কবি ও গবেষক।