মেধাবী শিক্ষার্থী অনিককে খুন করলো কারা?

স্টাফ রিপোর্টার
‘ছেলেটাকে বুকে আগলে রেখেছিলাম, গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে এসেছিলাম পড়াশুনা করানোর জন্য। শহরে এমন নিষ্ঠুরতা জানলে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে শহরে আসতাম না, খুনীরা যদি আমার কাছে টাকা চাইতো, আমি আমার যা ক্ষমতা আছে সব দিয়ে দিতাম, তবুও আমার ছেলেটাকে যদি বাঁচিয়ে রাখতো তারা।’
সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র ব্রহ্মের বিভৎস মরদেহ হাসপাতালের লাশের ঘরে দেখে আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন বাবা প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম।
বললেন, আমার ছেলেকে খুব নির্যাতন করে মেরেছে তারা। শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, বুকের বাম পাশে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। পায়ের আঙুলে আগুন দেওয়া হয়েছে। হাত পায়ে রশি বেঁধে মাথায় আঘাত করেছে। আঘাতের অংশ দেবে গেছে। চিৎকার যাতে করতে পারে না, সেজন্য মুখ বেঁধে রেখেছে।’
সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র ব্রহ্মকে (১৭) নির্মম ভাবে হত্যা করে লাশ রাখা হয়েছিল নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ কোর্ট ভবনের নীচতলায়। রবিবার দুপুর ১টা থেকে বেলা ৪টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় অজ্ঞাত হিসাবে ওই কিশোরের লাশ নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ কোর্ট ভবনের নীচতলা থেকে উদ্ধার করে।
সোমবার সকালে খবর পেয়ে নিহত কিশোরের পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন। হতভাগ্য কিশোর তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁও গ্রামের প্রদীপ ব্রহ্ম ও অঞ্জনা রানী পালের ছেলে। চার ছেলেকে পড়াশুনা করাতে গ্রাম ছেড়ে সুনামগঞ্জ শহরের পশ্চিম নতুনপাড়ার এসে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তারা।
সোমবার বিকালে প্রদীপ ব্রহ্মের নতুনপাড়ার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের শোকে মা অঞ্জনা রানী ব্রহ্ম বার মুর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশি ও স্বজনরা তাকে শান্তনা দেবার চেষ্টা করলেও, জ্ঞান ফিরলেই তিনি বিলাপ করে বলছেন, আমার ছেলে বাসা থেকে বের হয় না, সারাদিন বাসায় পড়াশুনা করে। সেদিন বললো, মা আসি, ফোন রেখে বের হয়ে গেলো, আর আসে নি। সারাদিন বাসায় না ফেরায় ভাবলাম হয়তো দোল পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে গেছে, আর ফিরলো না সে।
সরকারি জুবীলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফয়েজুর রহমান বলেন, অনিক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। স্কুলে ন¤্র, ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। কখনও কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে বলে জানা নেই আমার। তার এরকম মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুর রহমান মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জানালেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই মামলা হবে। লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানালেন, অনিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।