মেরামতের পর সড়কে ধস, ভোগান্তি চরমে

আকরাম উদ্দিন
দোয়ারা পশ্চিমবাজার প্রবেশমুখের খেয়াঘাট সংলগ্ন জন চলাচলের প্রায় ৫০ মিটার পাকা সড়ক গত বছর মেরামতের পর ধসে পড়েছে। এই কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চলাচল করছেন ধসে যাওয়া সড়কে। সড়কের টেকসই উন্নয়নের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দোয়ারা বাজারের পশ্চিম অংশে প্রবেশ পথের জন চলাচলের প্রায় ৫০ মিটার সড়ক গত বছর মেরামত করা হয়। মেরামতের সময় সড়কের সুরমা নদীর সাইটে গার্ডওয়াল নির্মাণের পর পাকা ঢালাই দেয়া হয়। কিন্তু সড়কের টেকসই উন্নয়ন হয়নি। এই কারণে মেরামতের কয়েকদিন পর কোনো কোনো স্থান ধস নেমেছে, আবার কোনো কোনো স্থান দেবে গেছে। এখন এই সড়ক দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ধেবে যাওয়া সড়কে মানুষজন চলাচল করেন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় যানবাহন করে বিকল্প সড়ক দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিকল্প সড়কে বাজারে প্রবেশ করতে মানুষজনের সময় ও খরচ বেড়েছে অনেক।
দোয়ারা পশ্চিমবাজার প্রবেশমুখের খেয়াঘাট দিয়ে মান্নারগাঁও, হাজারীগাঁও, কাটাখালী, আজমপুর প্রভৃতি এলাকার মানুষ প্রতিদিন দোয়ারা বাজারে আসেন। কেউ মালামাল নিয়ে আসলে বাজারে পৌঁছতে ভাঙা সড়কের কারণে খরচ ও সময় লাগে অনেক বেশি। অথচ এই সড়কের আশপাশে কোনো নদী ভাঙনও নেই। কিন্তু মেরামত করেও সড়ক টিকিয়ে রাখতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজমপুর গ্রামের রুছমত আলী বলেন, সড়ক মেরামতের আগেও অনেকটা ভাল ছিল। মেরামতের পর ধসে যাওয়ায় গাড়ি করে মালামাল নিয়ে যাওয়া যায় না। সামান্য ভাঙনের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মারাত্মক ভোগান্তি। সড়কের মেরামত জরুরি প্রয়োজন।
অটোরিক্সা চালক নুর আলী বলেন, আমিও অটোরিক্সা নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে পারি না। উল্টে পড়ে যাবে। যাত্রী নিয়ে অন্যদিকে ঘুরে যাই। সড়ক মেরামত হলে সকল মানুষের ভোগান্তি কমে আসতো।
সিএনজি চালক আমির হোসেন বলেন, এলজিইডি এই সড়ক গত বছর মেরামত করেছিল। মেরামতের পর আবার ভেঙে গেছে। দীর্ঘ ১ বছরেও মেরামত কাজ হয়নি। এই কারণে আমরা বিকল্প সড়কে যাত্রীদের নিয়ে যাই। এতে তাদের খরচ লাগে বেশি। এই কারণে সড়কের মেরামত জরুরি প্রয়োজন।
দোয়ারা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী দেবতোষ পাল বলেন, এই সড়ক আমাদের নয়। এটা সড়ক ও জনপথের। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন এলজিইডি’র এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। এই সড়কের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।