মোমেন রেলমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠির বিষয়ে ফেসবুকে কিছুই উল্লেখ করেন নি

বিশেষ প্রতিনিধি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন’এর ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যটাসের প্রতিক্রিয়ায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, ‘মোমেন আমার পুরোনো বন্ধু, আমাদের দুজনের কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে ছাতক-সুনামগঞ্জ- মোহনগঞ্জের রেল লাইন নিয়ে রেল মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠির বিষয়ে মোমেন কিছুই আমাকে বললেন না, পরবর্তীতে এ নিয়ে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যটাসেও তিনি চিঠির বিষয়ে কিছু বললেন না বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান।
মঙ্গলবার দুপুরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে কথা বলার সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘ মোমেন আমার ৫০ বছরের বন্ধু, সুখে দু:খে আমরা একসঙ্গে আছি, থাকব, সব কথাই তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঠিক লিখেছেন। আমরা দু’জন একসঙ্গে মন্ত্রী সভায়ও কাজ করছি, তিনি রেল মন্ত্রীকে ছাতক-সুনামগঞ্জ- মোহনগঞ্জের রেল লাইনের বিষয়ে চিঠি লিখলেন, আমার প্রসঙ্গও তাতে এনেছেন, কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলেন নি। সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য ৫ জন লিখেছেন তিনি, সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিও, আমাকে তিনি বাদ দিলেন কেন। আমার সঙ্গে কথা বলেই তিনি এই প্রসঙ্গে রেল মন্ত্রীকে চিঠি লিখতে পারতেন। পরে মোমেন তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যটাসেও রেলমন্ত্রীকে চিঠি দেবার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন।’ গত দুই দিন সিলেট ও সুনামগঞ্জের স্থানীয় কিছু দৈনিকে ও অনলাইনে পরিকল্পনা মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বন্দ্ব উল্লেখ করে সংবাদ এবং পরে পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন’এর ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার তাঁর নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে তাঁর কোনো দ্বন্দ্ব নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘মান্নান আমার বন্ধু, মান্নানের সাথে আমার সম্পর্ক ৫০ বছরের অধিক। আমি এবং মান্নান সুখে দুঃখে সবসময়ই ছিলাম এবং আছি, ভবিষ্যতেও আমৃত্যু থাকব বলেই আশা করি। দুঃখজনক যে, সিলেটের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে দেখলাম আমার এবং মান্নান এর মধ্যে নাকি দ্বন্দ্ব রয়েছে, এবং এই দ্বন্দ্বের কারণে নাকি সিলেটের অনেক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে! কে বা কারা এই সংবাদটি প্রচার করছেন জানি না তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।’
তিনি লিখেছেন, ‘যে বা যারা এটি প্রচার করছেন, তারা হয়তো বা কোন বিশেষ বা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করছেন। ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটির প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না, তবে একটি বিশেষ কারণে দিচ্ছি আর তা হল আমার এবং মান্নানের স্থানীয় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন আর তাদের মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়।’
প্রসঙ্গত. গত ১০ জুন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপিকে দেওয়া চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন লিখেন, ছাতক- সুনামগঞ্জ- মোহনগঞ্জ অঞ্চলসমূহের রেলপথ স্থাপনের বিষয়ে সুনামগঞ্জের ৫ (পাঁচ) জন মাননীয় সংসদ গত ০৬ জুন তারিখে আপনার নিকট যে আধা- সরকারি পত্র প্রেরণ করেছে, সেটা আমার কাছে যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রত্যেকটি জেলায় রেলপথের অবিচ্ছিন যোগাযোগ স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপরিল্লিখিত অঞ্চলসমূহে রেলপথ স্থাপন করা হলে তা সামগ্রিক দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি। উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে তৎকালীন রেলমমন্ত্রী জাতীয় নেতা জনাব সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ছাতক- সুনামগঞ্জ- মোহনগঞ্জ রেলপথ স্থাপনের ষোষণা দেন এবং পরবর্তীতে রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ কয়েক দফা এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও সমীক্ষা করেন। সমীক্ষা অনুযায়ী উক্ত এলাকাসমূহে লাইনমেন্টও তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ও ছাতকের সাথে সুনামগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ রেলপথ স্থাপনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এই অবস্থায়, বর্ণিত বিষয়ে সুনামগঞ্জের ০৫ (পাঁচ) জন মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে একমত পোষণ করে ছাতক সদর- দোয়ারা বাজার- সুনামগঞ্জ সদর থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই চিঠির অনুলিপি পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি ছাড়া সুনামগঞ্জের অন্য ৫ জন সংসদ সদস্যকে দেওয়া হয়েছিল।