যথাযথ উন্নয়ন চান এলাকাবাসী

আকরাম উদ্দিন
আড়াই হাজার পরিবারের শিশুর প্রাইমারী শিক্ষা অর্জনে ইব্রাহীমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় ১২৯ বছর ধরে ৬ গ্রামের শিশুদের লেখাপড়া চলছে এই বিদ্যালয়ে। সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহীমপুর গ্রামে অবস্থিত এই বিদ্যালয়। অতি প্রাচীন এই বিদ্যালয় ঘিরে রয়েছে নানা সমস্যা। বিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনের দাবি এলাকাবাসীর।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় এলাকায় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মাণ হয়েছিল টিনশেডের একটি দীর্ঘ ভবন। এই টিনশেড ভবনের পুরাতন টিন থাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষের মেঝেতে বৃষ্টির পানি পড়ে। শ্রেণী কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙা, ফ্লোর ভাঙা, ছাদের সিলিং ভাঙা রয়েছে। পরে ১৯৯৫ সালে এই টিনশেডের সামনের দিকে ১টি ও ২০০৬ সালে আরও একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। পাকা ভবন ও টিনশেড ভবন মিলে ৮টি শ্রেণী কক্ষ রয়েছে বিদ্যালয়ে। এরমধ্যে ২টি শ্রেণী কক্ষে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক এবং মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার। বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ সংকট আছে আরও ২টি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, বিদ্যালয়ের দেয়াল নেই, নিরাপদ পানির নলকূপ নেই, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র নেই। বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনশেড ভবনের পাশে রয়েছে একটি পুকুর। এই পুকুরের পাড় ভেঙে এখন বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সরকারী বরাদ্দে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার ব্যবস্থা না করলে পর্যায়ক্রমে পুরাতন ভবনটি পুকুরে বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে এই ভবনের উত্তরের কিছু অংশ মাটি শূন্যতায় ঝুলে আছে।
সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এবার ইব্রাহীমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পুরাতন ভবন ভেঙে নির্মাণ করা যাবে যদি কেউ পুকুর পাড়ে মাটি ভরাট করে প্রশস্ত করে দেয়। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সামনের ১টি পাকা ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই ভবনে থাকবে ৬টি শ্রেণী কক্ষ। নিচে ৩টি, উপরের তলায় ৩টি। বিদ্যালয়ের আঙিনা সুন্দর হবে। বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা ও থাকবে।
জানা যায়, ১৮৯০ সালে ১৮ শতক জায়গার উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়ে ইব্রাহীমপুর গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর লেখাপড়া চলে আসছে শতাধিক বছর ধরে। জালখালী নদীরপাড় এলাকায় সদরগড় গ্রামের কিছু অংশের শিশুরা, ইব্রাহীমপুর গ্রামের শিশুরা, পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের করুখালীর পাড় পর্যন্ত এলাকার শিশুরা এবং ইব্রাহীমপুর গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার শিশুরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া অর্জন করে আসছে। এছাড়াও অক্ষয়নগর গ্রামের একাংশের শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথপুর গ্রামের একাংশের শিশু শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১০ জন, শিক্ষার্থী ৫৯৮ জন। গত বছর সমাপনী পরীক্ষায় ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাশ করে ৮৯ জন। এরমধ্যে ২জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আমজদ হোসেন, শিক্ষানুরাগী দেলোয়ার হোসেন, জালাল আহমদ, শামীম আহমদ, শাওন আহমদ, সাজ্জাদ মিয়াসহ অনেকেই জানান, এই বিদ্যালয়টি অতি প্রাচীন বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে আশানুরূপ। এবারও ১টি নতুন ভবন নির্মাণ হবে জেনেছি। কিন্তু আমাদের শিশুদের শিক্ষার মান আরও ভাল হতে হবে। সকল শিক্ষকেরা সময়মত বিদ্যালয়ে আসতে হবে। কোনো কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ের কক্ষে বসে ধুমপান করতে দেখেছি। তা আর দেখতে চাই না। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে চলেছেন কতিপয় ব্যক্তিরা। তা না করে শিক্ষার অগ্রগতিতে কাজ করা উচিৎ সকলের।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আপন আনোয়ার ও প্রতিমা বৈদ্য বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানির নলকূপ নেই। বৃষ্টির দিনে পুরাতন ভবনের টিনের ছাদে পানি পড়ে। এই সমস্যা সমাধানের দাবি আমাদের।’
শিক্ষানুরাগী রুমেল আহমদ ও লাইলুন নাহার বলেন,‘ইব্রাহীমপুর সহ আশপাশ গ্রামের এক বিশাল জনগোষ্ঠী পরিবারের শিশুরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ সংকট থাকায় বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি নেয়া যায় না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুল আহমেদ বলেন,‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার অগ্রগতিতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিক্ষার মান ভাল আছে। গত বছর ও সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল ভাল হয়েছে। প্রতি বছর অন্তত: ১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায়। কিন্তু আমি পারিনি ভর্তি করতে। কারণ বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ সংকট।’ তিনি বলেন,‘কে বা কারা অযথা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার দেয়। এতে আমি মানসিকভাবে কষ্ট পাই। এই অপপ্রচার না করে শিক্ষার অগ্রগতিতে কাজ করার আহ্বান জানাই।’