- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

যাত্রী’র পাশে দাঁড়ালেন গণমাধ্যমকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সমকালে মঙ্গলবার ‘ইজি বাইক নিয়ে লড়ছেন যাত্রী’ শীর্ষক সংবাদ দেখে যাত্রীর স্বামীর চিকিৎসা খরচের জন্য সহায়তায় এগিয়ে আসলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সমকালের একজন সাবএডিটর (নাম প্রকাশ করতে চান নি) সুনামগঞ্জের সংগ্রামী নারী যাত্রীর করুণ অবস্থা জেনে মঙ্গলবার সকালেই এই প্রতিবেদকের কাছে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন যাত্রীর হাতে তুলে দেবার জন্য। দুপুরে সুনামগঞ্জে করোনাকালে গণমাধ্যম কর্মীসহ মানবিক উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক সংগঠন ‘অসহায়য়ের পাশে আমরা’এর সংগঠকরা আরও ৬ হাজার টাকা তুলে দেন। পরে যাত্রী দত্তের হাতে এই ২১ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এসময় যাত্রীর স্বামীর চিকিৎসা খরচের জন্য আরও টাকা দেবার আশ^াস দেওয়া হয় অসহায়ের পাশে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে।
টাকা তুলে দেবার সময় উপস্থিত ছিলেন, অসহায়ের পাশে আমরা’র সংগঠক সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক’র) সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সমকালের জেলা প্রতিনিধি পঙ্কজ দে, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ ও মাহবুবুল হাসান শাহীন, ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম, সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত. করোনা পরিস্থিতিতে ৬ সদস্যের পরিবারের জীবীকা রক্ষার লড়াই করছেন নারী ইজি বাইক চালক যাত্রী রাণী দত্ত। কিন্তু সে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে হেরে যাচ্ছেন যাত্রী। তার স্বামী হৃদয় চন্দ্র দত্তের কিডনিতে ইনফেকশন হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন এই সংগ্রামী নারী। দারদেনা করে এতোদিন চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন আর চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা নেই তার।
স্বামী হৃদয় চন্দ্র দত্তের শরীরে জটিল রোগ ধরা পড়েছে। সে রোগ সারাতে অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সাধ্য নেই যাত্রীর। স্বামীকে হাসপাতালে রেখে ওষুধের টাকা জোগাড় করতে লকডাউনের মাঝেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বাধা উপেক্ষা করে অন্য সময়ের মতোই ইজি বাইকের স্ট্রিয়ারিংয়েই আছেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলার টেকাটুকিয়া গ্রামের দেবেন্দ্র বর্মণ (মৃত) ও শুভা রাণী বর্মণের বড় মেয়ে যাত্রী রানী বর্মণ। যাত্রীর বয়স যখন আট বছর তখন তাঁর বাবা মারা যান। সেই থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়। পাথর ভাঙা, অন্যের বাসায় কাজ, মেসে রান্না করা সহ সব কাজই করেছেন যাত্রী। এখন শহরের নবীনগরে স্বামী, মা ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকছেন।
জীবনসংগ্রামে হার না মানা যাত্রী ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে তাঁকে এই সম্মাননা দেয় জেলা প্রশাসন।
৯ বছর আগে হৃদয় দত্তকে বিয়ে করেন যাত্রী। বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরতলীর নবীনগরে ২ রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। রিক্সা চালক হৃদয় দত্ত ৭ মাস যাবৎ শয্যাশায়ী। রিকশা নিয়ে বের হতে পারেন না। এই ৭ মাসে বাসা ভাড়া সহ ৬ সদস্যের পরিবারের খরচ একাই চালিয়েছেন নারী ইজিবাইক চালক যাত্রী।

  • [১]