যে যেরকম পারছে গন্তব্যে যাচ্ছে

সাইদুর রহমান আসাদ
সন্ধ্যা ৭ টা। মল্লিকপুরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসময় লোকজনের সরগরম থাকার কথা। তবে গতকাল এমনটা চোখে পড়েনি। বাসের সঙ্গে চালক, হেলপার ও কাউন্টারে ম্যানেজার রয়েছেন। যাত্রীদের আসার অপেক্ষা করছেন তারা। তবে এসময় কোনো যাত্রীদের ভিড় বা কাউন্টারে সামনে কোনো লাইন দেখা যায়নি। আলো ও যাত্রীদের হট্টগোল ছাড়া বেমানান দেখাচ্ছিলো নতুন বাস স্টেশন এলাকা।
সাড়ে ৭ টার সময় ঢাকা মেট্টো ব ১১৭৫৫৪ নম্বরের ৩৪ জনের বাসটি মাত্র ৫ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসের হেলপার বললেন, মানুষ জানে লকডাউনে সব বন্ধ রয়েছে। তবে সরকার কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে দিয়ে জেলায় বাস চালানো অনুমতি দিয়েছে সেটা সকলে জানে না। তাই আমাদের যাত্রী কম। মাত্র ৫ জন যাত্রী নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি আমরা।
সিলেট যাত্রী নিয়ে গেলে অসুবিধা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সিলেট পর্যন্ত যেতে পারি। মাঝে মাঝে পুলিশ গাড়ি আটকায়। তখন গোবিন্দগঞ্জ গিয়ে যাত্রীদের অন্য ব্যবস্থা করতে হয়।
যাত্রী সুমন মিয়া বললেন, আমার সিলেট যেতে হয়। একজন আত্মীয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে দেখার জন্য যাচ্ছি। সিলেট গাড়ি যেতে পারবে না এ বিষয়ে জানেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউন্টারে কিছু বলে নাই। ভাড়া তো অতিরিক্ত রাখা হয়েছে। ১৬০ টাকা দিয়ে ডাইরেক্ট সিলেটের টিকেট কেটে বাসে উঠছি। এখন সিলেট পৌচ্ছানো দায়িত্ব তাদের।
জানা যায়, মহামারি করোনার ঢেউ সামলাতে কয়েক দফায় লকডাউন দিয়ে গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ করে রেখেছিল সরকার। তবে সামনে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিটি সার্ভিস ও জেলার বাস সার্ভিস অন্য জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না শর্তে গেল বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন চালু করে দেয়া হয়েছে। এজন্য বাস ছাড়ার আগে সম্পূর্ণ স্বাস্থবিধি মেনে পুরো বাসে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে। যাত্রী, বাসচালক ও সহকারীকে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক সিট খালি রেখে গণপরিবহন চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে না গেলেও যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজ নিচ্ছেন। বাস স্ট্যাশন থেকে একটু এগিয়ে আব্দুজ জহুর সেতুর উপরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বীজ্রের একপাশে পুলিশের চেকপোস্ট আর অন্যপাশে লাইন করা সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে। এসব সিএনজির চালকরা সিলেট, ঢাকা বলে ডাকছেন। তাদের ডাকে সারাদিচ্ছেন কেউ কেউ।
সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখান থেকে তারা কন্ট্রাকে যাত্রীদের নিয়ে নেন। যারা ঢাকা যেতে চান তাদের কাছ থেকে ২ হাজার করে নেন। তাদেরকে সিলেট গিয়ে ঢাকাগ্রামী মাইক্রোবাসে তুলে দেন। এতে ৫ জন যাত্রী নিয়ে দিতে পারলে তাদের লাভ হয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা। এছাড়াও শুধু সিলেটে যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচশ’ টাকা করে নেন।
সিএনজি চালক রফিক মিয়া বললেন, সামনে ঈদ। পরিবার আছে। রুজির না করলে এবারের ঈদ মাটি হবে। কয়েকদিন পরে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই সিএনজি নিয়ে বের হয়েছি। সিলেট গেলে রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয় না বলে জানান তিনি।
জেলা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া বললেন, যাত্রী কম হলেও বাস চলতেছে। ডাইরেক্ট সিলেট যাওয়া যায় না। গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত যাওয়া যায়। তবে কিছু যেতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, পরিবহন চালানোর সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। সবাই সেসব নির্দেশনা মানছেন কিনা আমরা তদারকি করছি।