রণেশ ঠাকুরকে নগদ টাকা ও যন্ত্র দিলো শিল্পকলা একাডেমী

স্টাফ রিপোর্টার
বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল রণেশ ঠাকুরের পুড়িয়ে দেবার গানের ঘর নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন উজান ধলের বাড়িতে গিয়ে এই টাকা রণেশ ঠাকুরের হাতে তুলে দিয়েছেন। রণেশ ঠাকুর টাকা ও বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিম ধর্মান্ধগণ কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে যে গানটি লিখেছিলেন ‘মনের বেদনা… বাধ্য আছি তোমার মতে, চাইনা আমি রাজা হতে, উজানধল গাছতলাতে, থাকতে দিলায় না’ এই গানটি উপস্থিত সকলকে গেয়ে শুনান।

এসময় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দে, জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য খলিল রহমান, সাংবাদিক এআর জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে একই সময়ে একটি নতুন বেহালা, ঢপকি, মন্দিরাসহ কয়েকটি দেশীয় গানের যন্ত্র, ডায়রি ও কলম রণেশ ঠাকুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

রণেশ ঠাকুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীনসহ কর্মকর্তাদের জানান, তার ঘর পুড়ানোর ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করার পর নানাভাবে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তারা বলছে, পুলিশ ও প্রশাসন কয়দিন রণেশকে দেখে রাখে, দেখবো আমরা।

জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন রণেশ ঠাকুরকে সাহস দিয়ে বলেন, কারো হুমকি-ধামকিতে ভয় পাবেন না, আপনি অন্যায়কারী মানুষ নয়, শিল্পী সমাজসহ দেশবাসী আপনার সঙ্গে আছে।

গত রোববার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা জ্বালিয়ে দেয় শাহ্ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল রণেশ ঠাকুরের বাউল আসর ঘর। এই ঘটনায় ৫৫ বছর বয়সি এই বাউল ও তার শিষ্য সামন্তের সকল বাদ্য যন্ত্রই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, উজান ধলের রবনী মোহন চক্রবর্তী কীর্ত্তনীয়া ছিলেন। তার ছেলে রুহী ঠাকুর ও রণেশ ঠাকুর বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের অন্যতম শিষ্য বাউল। ওস্তাদ শাহ্ আব্দুল করিম ও বড় ভাই রুহী ঠাকুর মারা যাবার পর ভাটী অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে যে কজন বাউল জনপ্রিয়, এরমধ্যে অন্যতম রণেশ ঠাকুর। বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়ি’র লাগোয়া রণেশ ঠাকুরের বাড়িতে করোনা কালের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বাউল আসর বসতো।