রাধারমণ লোকসংগীত উৎসব শুরু

সু.খবর ডেস্ক
শুক্রবার সন্ধ্যার হাওয়া একটু ঠান্ডা। হালকা কুয়াশাও ছিল। শিল্পকলা একাডেমির মাঠে বিপুলসংখ্যক শ্রোতা তন্ময় হয়ে আছেন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’, ‘কে তোরে শিখাইল রাধার’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘প্রাণ বন্দে আমার প্রাণ যায়’ হৃদয়ছোঁয়া এমন গানে। এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী রাধারমণ সংগীত উৎসব। এদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভাটি অঞ্চলের শিল্পীদের গানের টানে হাজার হাজার শ্রোতা জড়ো হয়েছিলেন একাডেমির মাঠে।
রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে হবে’ স্লোগানে আয়োজিত উৎসবকে সামনে রেখে রাজধানীতে এসেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকশিল্পীরা। বৈষ্ণব সাধক ও লোকসংগীতের অন্যতম পুরোধা মরমি কবি রাধারমণ দত্তের গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা।
‘সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে হবে’ স্লোগানে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে শুরু হয়েছে তিন দিনের রাধারমণ লোকসংগীত উৎসব। উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যায় সমবেত গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা
উৎসবের উদ্বোধন করেন লালনগীতিশিল্পী ফরিদা পারভীন। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার। রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের সহসভাপতি আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়।
উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয় দলীয় পরিবেশনা দিয়ে। শিল্পীরা গেয়ে শোনান রাধারমণের বিখ্যাত গান ‘আমার মন করে আকুল’ ও ‘সুরধ্বনির কিনারায়’। এরপর স্পন্দনের শিল্পীরা অনীক বসুর পরিকল্পনায় রাধারমণের ‘জলের ঘাটে দেইখা আইলাম’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় সংগীত অনুষ্ঠান। কানিজ খন্দকার মিতু শোনান ‘ভ্রমর কইও গিয়া’, দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন ‘শীত বই মারল টান’, লাভলী দেব গেয়ে শোনান ‘কে তোরে শিখাইল রাধার’ ও ‘প্রাণ বন্দে আমার প্রাণ যায়’, আবুবকর সিদ্দিক শোনান ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, পুষ্পিতা সোম গেয়ে শোনান ‘নাগরী গো মরমিয়া’, শাহনাজ বেলী শোনান ‘এমন মায়ার কান্দন আর’ ও ‘যুগল মিলন হইল গো’। বাউল বাবুল শাহ প্রথমে গেয়ে শোনান ‘আমি ভুলে রইলাম গো’ ও ‘মিছা ধান্দাবাজি এ সংসারে’।
এরপর কৃষ্টি রায় পরিবেশন করেন ‘এবার হইল রে বন্ধু’, স্বপ্না দেবনাথ শোনান ‘হরি গুণাগুণ কৃষ্ণ গুণাগুণ’ ও ‘জলে গিয়াছিলাম সই’। অনুপম দাস গেয়ে শোনান ‘পাষাণ মন রে বুঝাইও’। অনামিকা চন্দ পরিবেশন করেন ‘কেমন আছে কমলিনী’, বিন্দু সূত্রধর শোনান ‘বলো গো বলো গো সখী’ ও ‘একটি পান চাইলাম’। অর্পিতা দেব প্রাপ্তি পরিবেশন করেন ‘আসবে শ্যামকালিয়া’। মিতালী রায় গেয়ে শোনান ‘পতিত পাবন নাম’, কাশেম আল আজাদ গেয়ে শোনান ‘সুখের সাথি’। সবশেষে সারেগামা ধামাইল একাডেমির শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আমি কৃষ্ণ কোথায় পাই গো’ এবং ‘সংকেত বাঁশি বাজায় গো’।
সূত্র : প্রথমআলো