রুমেনের চমক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের চমক দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন। অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা জেলা পরিষদের বিগত মেয়াদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মুকুটের ভোটের দুর্গ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়ও তিনি চমক দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রাপ্ত ভোটকে অনেকেই ‘চমক’ হিসাবে মন্তব্য করেছেন। তবে তাঁর নিজের উপজেলা জগন্নাথপুরের ভোট দেখে অনেকে হতাশ হয়েছেন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের প্রচার ছিল বেশি, আওয়াজও ছিল বেশি। দলের মনোনীত প্রার্থী রুমেন হলেও স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও কর্মী-সমর্থক মিলিয়ে মুকুটের পক্ষেই প্রচারণায় বেশি জনবল ছিল। কিন্তু শেষ দুইদিনে জেলাজুড়ে একযোগে রুমেনের আওয়াজ বেড়ে যায়। রুমেনের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনও শেষ দুইদিন চষে বেড়ান জেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোতে।
সোমবার ভোট শেষ হবার আধা ঘণ্টা পরই বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল আসলে অনেকেই হতবাক হন।
সদর উপজেলায় নুরল হুদা মুকুটের দুর্গে তিনি পান (মোটরসাইকেল) ৭৯ এবং রুমেন (ঘোড়া) পান ৫৩ ভোট, দোয়ারাবাজার উপজেলায় মোটরসাইকেল ৪০, ঘোড়া ৭৯, দিরাই উপজেলায় মোটরসাইকেল ৮৪ এবং ঘোড়া ৪৮, শাল্লায় মোটরসাইকেল ২৫ এবং ঘোড়া ২৮, জামালগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল ৪৪ এবং ঘোড়া ৩৭, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল ৪৩ এবং ঘোড়া ২৫, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল ৫৫ এবং ঘোড়া ৫১, মধ্যনগর উপজেলায় মোটরসাইকেল ৩৭ এবং ঘোড়া ১৫, তাহিরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল ৫১ এবং ঘোড়া ৪৩, ছাতক উপজেলায় মোটরসাইকেল ৬০ এবং ঘোড়া ১২০, জগন্নাথপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল ৮৯ এবং ঘোড়া ২৯, ধর্মপাশা উপজেলায় মোটরসাইকেল ৪১ এবং ঘোড়া পায় ৪০ ভোট।
এই ফলাফলকে রাজনৈতিকভাবে চমক বলেছেন অনেকে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন, আওয়ামী লীগের ভোট আছে, যোগ্য প্রার্থীও ছিল। দলের কেউ কেউ বিরোধীতা করেছেন। এটা কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের পরামর্শ মোতাবেক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির এরচেয়ে বেশি করার ক্ষমতা নেই। রুমেন সকল উপজেলায় ভোট ভালো পেয়েছেন। তাঁর নিজের উপজেলায় প্রাপ্ত ভোট দেখে আমার বিশ^াসই হয়নি।